কলকাতা : নির্বাচনের পর একদিকে যখন তৃণমূলের দুর্দিন, ঠিক তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার্টার্ড বিমানে দিল্লি যাত্রা ঘিরে বিতর্কের ঝড় বঙ্গ রাজনীতিতে। পার্টির খরচে এই সফরের সমালোচনা করলেন বহু রাজনৈতিক নেতারা। মুখ খুলেছেন দলেরই বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদের চার্টার্ড সফরকে স্টেটাস সিম্বল হিসাবে খোঁচা দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে এই সফর স্বাভাবিক বলে মনে হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লি যাত্রা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কারণ, ছন্নছাড়া অবস্থা গোটা দলের। 

Continues below advertisement

দল ক্র্য়াশ করেছে। ভেঙে খান খান। এখানে ওখানে টুকরো ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নেতা এখনও আগের মতোই স্বমহিমায় উড়ে বেড়াচ্ছেন। চার্টার্ড ফ্লাইটে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দিল্লি যাওয়া নিয়ে এখন জোর বিতর্ক রাজনৈতিক মহলে। বিতর্কের সূত্রপাত হয়, শুক্রবার যখন চার্টার্ড বিমানে চেপে দিল্লি যান তিনি। দলের সঙ্কটকালে তাঁর এই আচরণ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে দলেরই অন্দরে।

কত খরচ হয় চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি যাওয়া-আসাতে ?

Continues below advertisement

বিমান পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ক্য়াপ্টেন বি পার্থসারথির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি যাওয়া-আসার ভাড়া প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। শুধু কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে খরচ পড়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকার মতো। চার্টার্ড ফ্লাইট ছাড়া এমনি দিল্লি যেতে বিমানের বিজনেস ক্লাসের ভাড়া লাগে ৪০ হাজার টাকা। আর ইকনমি ক্লাসের টিকিটের দাম ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে। সুতরাং ৬ লাখের পরিবর্তে মাত্র ৪০ হাজারেই মিটে যেত কাজ। 'নেতা' যেতে পারতেন নেতা বিজনেস ক্লাসে। কটাক্ষ করছেন অনেকেই।  আরও পড়ুন - ২১ জুলাই নিয়ে বিপাকে মমতা-অভিষেক, কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন ? নোটিস জারির নির্দেশ হাইকোর্টের

বিলাসিতা নিয়ে কুণাল ঘোষ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কী জানান ?

তৃণমূলের বর্তমান রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, '' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় কোন ফ্লাইটে গেছেন, সেটা যাত্রীবাহী সাধারণ বিমান না চার্টার্ড বিমান বা কোনও বিশেষ বিমান আমি বলতে পারব না। এখন এবিষয়ে আমি কথা বলার কেউ নই। কিন্তু পার্টির খরচা করে যদি কেউ বিমান ভাড়া করে গিয়ে থাকে, তাহলে আমি কোনওমতে সেটা সমর্থন করছি না।'' 

তৃণমূলের বহিস্কৃত ও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, '' চার্টার্ড ফ্লাইট, চপার এগুলো উনি মনে করেন হয়তো ওনার স্টেটাস সিম্বলের জন্য জরুরি। কিন্তু একজন এমপি (MP) যে পরিমাণে টিকিট পান বিজনেস ক্লাসের, টিকিট শেষ করা যায় না। গোটা বিজনেস ক্লাসটা ভাড়া করে নিলেও অনেক কম পয়সায় হয়ে যায়। কিন্তু এই যে পার্টির টাকা এটা তো ওনার ব্যক্তিগত টাকা নয়। যা হিসাবপত্র পাওয়া যায় এই চার্টার্ড ফ্লাইটের পিছনে কত টাকা পার্টির ফান্ড থেকে নেওয়া হচ্ছে সবাই জানে। এতবড় পরাজয়, কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, মামলার খরচ, সেই অবস্থায় এর আগেও গেছেন চার্টার্ড ফ্লাইটে, এবারও চার্টার্ড ফ্লাইটে গেলেন।''