মালবাজার: জলপাইগুড়ির সভা থেকে চা শ্রমিকদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি জানিয়েছেন, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চা শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হবেন তাঁরা। চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটির দাবি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাকও দেন অভিষেক (Provident Fund)। 


জলপাইগুড়ির সভায় চা শ্রমিকদের পাশে থাকার বার্তা অভিষেকের


রবিবার জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri News) মালবাজারের সভায় এমন মন্তব্য করেন অভিষেক। তিনি জানান, চা শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং গ্র্যাচুইটির সমস্যার কথা তাঁর কানে এসেছে। ট্রেড ইউনিয়ন কেন তা নিয়ে সরব হচ্ছে না, প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। এ নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেন তিনি। বলেন, "সাতটি চা বাগান কেন্দ্র অধিগ্রহণ করবে বলেছিলেন মোদি। চা বাগানগুলি অধিগ্রহণ করেছে রাজ্য, প্রতিশ্রুতি রেখেছেন মমতা।  চা শ্রমিকদের জন্য বাজেটে কেন্দ্র ১০০০ কোটি বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। এক টাকাও পাননি কোনও চা শ্রমিক। রাজনৈতিক স্বার্থে আচ্ছে দিন আনার কথা বলে কেন্দ্র। ‘পিএফ-গ্র্যাচুইটির দাবি ন্যায্য, এটা রাজ্যের দায়িত্ব নয়, কেন্দ্রের দায়িত্ব। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ৩ লক্ষ চা শ্রমিকদের কাছে আইডি কার্ড পৌঁছে যাবে। কাল থেকে পিএফ-গ্র্যাচুইটি।"


এর পরই অভিষেক বলেন, "টাকা জমা না পড়লে ১ জানুয়ারি পিএফ অফিস ঘেরাও হবে। টাকা জমা না পড়লে বিজেপি বিধায়ক-সাংসদদের বাড়ি ঘেরাও হবে। ১ জানুয়ারি থেকে এক মাস বিজেপি বিধায়ক-সাংসদদের বাড়ি ঘেরাও। আন্দোলনের মাধ্যমে ভেঙে গুড়িয়ে দিতে হবে। চা বাগানের জমি নিয়ে বাড়ি বানিয়েছে বিজেপি নেতারা। বিজেপি বলছে নবান্ন অভিযান, আমরা বলছি সমাধান না হলে দিল্লি চলো।"


আরও পড়ুন: Abhishek Banerjee: উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ বলে আলাদা কিছু নেই, একটাই বঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গ, সাফ বার্তা অভিষেকের


অভিষেক আরও বলেন, "সিপিএম আমলে ২০১১ সালে হাজিরা ছিল ৬৭ টাকা। আজ বেড়ে হয়েছে ২৩২ টাকা। একটা অভিযোগ ছিল পিএফ পাই না, গ্রাচুইটি পাই না। পিএফ জমা হচ্ছে কি হচ্ছে না, এসএমএস আসে না, মালিক জমা করছেন কি না, অর্থাৎ এক বছর গেলে ১৫-১৬ হাজার টাকা পিএফ পান, সেই টাকা জমা হচ্ছে কি না, সেটা আপনারা জানতে পারেন না। তিন মাসের মধ্যে চা শ্রমিকদের পিএফ-গ্র্যাচুইটির টাকা জমা করতে হবে কেন্দ্রকে। চা বাগানের মালিকেরা পিএফ-গ্র্যাচুইটির টাকা জমা দেয় না ইচ্ছা করে। যে চা বাগানের মালিক পিএফ-গ্র্যাচুইটির টাকা জমা দেবে না, সেই মালিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করুন।"


চা শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের


চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, "ট্রেড ইউনিয়নের নেতা, খেটে খাওয়া শ্রমিকরা, যাঁরা সকালে বাচ্চা-কে বেঁধে চা পাতা তুলতে বেরোন, তাঁদের জন্য আমাদের আজকের সমাবেশ। শ্রমিক ভাইরা ১৫ দিনের হাজিরা পেতে না পেতেই এলাকার স্থানীয় মুদির দোকান, সেখানে ধার শোধ করতে করতে টাকা শেষ হয়ে যায়। এই সমাবেশ তাঁদের জন্য। এই সমাবেশ তাঁদের জন্য, যাঁরা তীর্থের কাকের মতো চেয়েছিল - কেন্দ্রীয় সরকার কী করবে, আর আমাদের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প কেন্দ্র ঘোষণা করবে? ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন, কী বলেছিলেন? আমার কাছে গেজেট নোটিফিকেশন রয়েছে।"