ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, প্রকাশ সিন্হা , সমীরণ পাল: ঠিক কী কারণে ঘটল আমদাবাদের ভয়াবহ বিমান বিপর্যয়? যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি পাখির ধাক্কায় ইঞ্জিন ফেলিওর? সামনে একাধিক বহুতল না থাকলে কি এড়ানো যেত মৃত্যু মিছিল? উত্তর মেলেনি কোনও প্রশ্নের। ভয়াবহ বিমান বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে যখন চলছে কাটাছেঁড়া, তখন আলোচনায় উঠে এসেছে এই শহরের বিমানবন্দরও। কলকাতা বিমানবন্দর কতটা নিরাপদ? আমদাবাদের মতো বিপর্যয় ঘটলে কী হবে কলকাতার? এই প্রশ্ন উঠছে বারবার।
আতঙ্কের কারণ শকুন? কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বহুতলের সারি। হাই মাস্ট হোর্ডিং, মোবাইল টাওয়ারের পাশাপাশি সমস্যা বাড়িয়েছে বেশ কয়েকটি ভ্যাট। যেখানে খাবারের জন্য আনাগোনা বাড়ছে বিভিন্ন রকম পাখির। যার ফলে সমস্য়া হচ্ছে বিমানের উড়ানে। পাইলট পার্থ ভৌমিকের মতে, কলকাতা বিমান বন্দরের কাছাকাছিই অনেকগুলি ডাম্পিং জোন আছে, যেখানে শকুনের আনাগোনা বিস্তর। আর উড়তে পারে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত। তিনি বিস্ময়প্রকাশ করেছেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এখানে প্রশাসন কীভাবে ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরি করে! এটা মোটেই নিরাপদ নয়।
শঙ্কা বাড়াচ্ছে বহুতল?এছাড়াও কলকাতা বিমানবন্দরের আশেপাশে গড়ে উঠেছে বহুতলের জঙ্গল। তাও সমস্য়া বাড়াচ্ছে। রাজারহাট, নিউটাউন থেকে মধ্যমগ্রাম, বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় গড়ে উঠছে বহুতলের সারি। বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বিপদ ডেকে আনতে পারে এই বহুতলগুলি,আশঙ্কা প্রকাশ করে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসনকে চিঠি লিখেছেন বাগুইআটির একবাসিন্দা। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন এনিয়ে চিঠি লিখে পদক্ষেপ নিতে বলে NKDA, বিধাননগর পুরসভা, দক্ষিণ দমদম পুরসভা থেকে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে। কাজ না হওয়ায় দেওয়া হয় রিমাইন্ডারও। কিন্তু তার পরেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাপ্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে জেলা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। AAI-এর পক্ষ থেকে কলকাতা বিমানবন্দরের আশেপাশে বহুতলগুলিকে চিহ্নিত করার বিষয়ে বলা হয়। সেগুলো চিহ্নিত করে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধাননগর কমিশনারেট সূত্রে জানানো হয়েছে, যে বহুতলগুলি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। বহুতলগুলি এই কমিশনারেটের এলাকায় পড়ে না।