ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, কলকাতা : আমদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার পর, পদে পদে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এয়ার ইন্ডিয়ার পরিষেবা নিয়ে। এরই মধ্যে, এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ফের ধরা পড়ল যান্ত্রিক ত্রুটি। গত কয়েকদিনে পরপর একাধিক বিমানে ত্রুটি ধরা পড়েছে। কখনও মাঝ আকাশ থেকে ফিরেছে বিমান, কখনও আবার নামার সময় বিমানের চাকায় ধরে গিয়েছে আগুন। এবার সানফ্রান্সিসকো থেকে কলকাতা হয়ে মুম্বইগামী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ল। কলকাতায় নামানো হল যাত্রীদের। 

 

মাঝ আকাশে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ধরা পড়ে যান্ত্রিক ত্রুটি। সানফ্রান্সিসকো থেকে কলকাতা হয়ে মুম্বই যাচ্ছিল AI 180 উড়ান। পাইলট জানান, বিমানের বাঁ দিকের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান। রাত ২টো নাগাদ কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে উড়ে যাওয়ার কথা ছিল বিমানটির। মুম্বই পৌঁছনোর কথা ছিল ভোর ৪টে ৫০ মিনিটে। বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় দীর্ঘক্ষণ কলকাতা বিমানবন্দরে আটকে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ৫টা ২০ মিনিটে যাত্রীদের নামিয়ে আনার ঘোষণা করা হয়। পাইলট জানান, যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। ঘটনাচক্রে এটিও বোয়িং বিমান। 

এবার এয়ার ইন্ডিয়ার AI 180 উড়ানটির বিমানের বাঁদিকের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ল। কলকাতায় অবতরণ করে বিমানটি।  রাত পৌনে একটা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামে বিমানটি। নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় যাত্রীদের । যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত, জানান পাইলট। এরপর যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। বিমানটি এখনও কলকাতা বিমান বন্দরেই আছে।   

বিমানবন্দর সূত্রে খবর, কয়েকজন যাত্রীকে অন্য বিমানে মুম্বই পাঠানো হয়।  এয়ার ইন্ডিয়ার AI 180 বিমানের যান্ত্রিক গোলযোগ গুরুতর। যন্ত্রাংশ পাল্টানো প্রয়োজন। এয়ারক্র্যাফট মেনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার।বিমানটিকে এয়ারক্র্যাফট অন গ্রাউন্ড (AOG) যাত্রী ছিলেন ২২৪ জন। সকলকেই বিমান থেকে হোটেলে পাঠানো হয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে।  

এর আগে, সোমবারই ফের বিভ্রাটের মুখে পড়ল দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ইন্ডিয়ার বিমান AI 315 । সকালে হংকং থেকে দিল্লি আসার কথা ছিল AI 315-এর। সূত্রের খবর, মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। প্রায় দেড়ঘণ্টা আকাশে ওড়ার পর সেটিকে ফের হংকংয়েই অবতরণ করানো হয়। 

আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, যেখানে শয়ে শয়ে মানুষের জীবন জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে রক্ষণাবেক্ষণে এরকম খামতির অভিযোগ বারবার কেন উঠবে? মানুষ তো চড়া দামে টিকিট কেটে বিমানে ওঠে। কিন্তু, উড়ান সংস্থার কাছে কি তাঁদের জীবনের কোনও মূল্যই নেই?