কলকাতা: বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) তুলনায় দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে মহিলাদের। তবে এতদিন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল—কবে থেকে এই প্রকল্প চালু হবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন পুর ও নারী শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্প নিয়ে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনেই করা যাবে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, খুব সহজ পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মহিলারাও নিজেরাই আবেদন করতে পারেন। তিনি বলেন, “অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ রাখা হবে। যাতে বাড়িতে বসেই আবেদন করা যায়।”
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করতে হবে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আশ্বাস দেন, “অনলাইনেই আবেদন করা যাবে। এমনকি পোর্টালটিকে অত্যন্ত সহজ-সরল করা হবে। যেখানে ওয়ান পাস বা টু পাস, প্রত্যেক মহিলা নিজেরাই নিজের আবেদন সেরে নিতে পারবে। আমি এতদিন শুনেছিলাম যে, দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে আবেদন চলছে। তবে আমি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলে সেটা সম্পূর্ণ অনলাইনে ব্যবস্থা করতে বলেছি। মা-বোনেরা যাতে অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজে আবেদন করতে পারে সেই ব্যবস্থাই করছি।”
আরও পড়ুন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কারা পাবেন? কারা পাবেন না? ফর্ম ফিলআপ কি করতে হবে?
উল্লেখ্য, ভোটের আগে বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহিলাদের জন্য চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, যেখানে লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ডবল অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করে প্রতি মাসে দেওয়া হবে। তবে এতদিন ধন্দা ছিল যে, কবে থেকে এই প্রকল্প চালু হবে আর কীভাবে আবেদন করতে হবে। যদিও গতকাল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্প চালু হবে, এবং মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প কার্যকর হতে পারে। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে সব আবেদনকারী এই সুবিধা পাবেন না। যাদের নাম সরকারি যাচাই প্রক্রিয়ায় বাতিল হয়েছে, মৃত ব্যক্তি অথবা অযোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের মহিলা মহলে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁদের বড় অংশই এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে আগ্রহী।
বর্তমানে রাজনৈতিক মহলেও এই প্রকল্প নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এই প্রকল্প বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
