অরিত্রিক ভট্টাচার্য ও শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা: ফের বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠল। পুরী থেকে হাওড়াগামী যাত্রীদের দাবি, কটকের কাছে আসতেই কেউ বা কারা পাথর ছোড়ে। যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় C-16 কোচের কয়েকটি জানলার কাচ। 

Continues below advertisement

ফের বন্দে ভারতে পাথর হামলা! এবার ওড়িশা! অভিযোগ, শনিবার পুরী থেকে হাওড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেস কটক পার হতেই, বিকেল ৩-৫৫ নাগাদ, ভারতীয় রেলের এই ফ্ল্যাগশিপ ট্রেনকে লক্ষ্য করে শুরু হয় পাথরবৃষ্টি, এমনটাই দাবি করেছে যাত্রীদের একাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় C-16 কোচের কয়েকটি জানলার কাচ। ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায় পুরী-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রীদের মধ্যে। প্রায় মিনিট দশেক ঘটনাস্থলেই ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী।

অনুষ্কা চট্টোপাধ্যায় নামে, বন্দে ভারতের এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী বলছেন, 'ট্রেনটা কটক পার হতেই প্রচুর ঢিল উড়ে আসতে থাকে। বেশ কয়েকটা উইন্ডো ভেঙে যায়। ট্রেনও দাঁড়িয়ে পড়ে। এটা খুবই আতঙ্কের বিষয়।' এর আগে বেশ কয়েকবার হামলার মুখে পড়েছে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। ২০২৩ সালে যাত্রী পরিষেবা শুরুর পর ৯দিনে ৪ বার পাথর ছোড়া হয় 'বন্দে ভারত'-এ। যা ঘিরে রীতিমতো শুরু হয় চর্চা। ২০২৩-এর ২রা জানুয়ারি, যাত্রা শুরুর দ্বিতীয় দিনে, মালদার কুমারগঞ্জ স্টেশনের কাছে আক্রান্ত হয় হাওড়াগামী ডাউন 'বন্দে ভারত' এক্সপ্রেস! পাথরের আঘাতে কাচ ভেঙে যায় ভারতের অন্যতম প্রিমিয়াম এই ট্রেনের দরজার। আঘাত লাগে জানলাতেও। 

Continues below advertisement

এর ঠিক পরদিনই ফের নিউ জলপাইগুড়িগামী বন্দে ভারতে ছোড়া হয় পাথর। বিহারের ধূলাবাড়ি ও মানগুরজান স্টেশনের মাঝে ঘটে ওই হামলা। এর এক সপ্তাহের মধ্যে, ২০২৩-এর ৮ জানুয়ারি বিহারের বরসই স্টেশনের কাছে তৃতীয়বার বন্দে ভারতে পাথরবৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। তার পরদিনই, বর্ধমান স্টেশনের কাছে এনজেপিগামী বন্দে ভারতে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সি-৫ কামরা। কিন্তু কেন বারবার একই ঘটনা? এমন প্রিমিয়াম একটি ট্রেন কেন এতবার হামলার শিকার হবে? বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ফের পাথরবৃষ্টির ঘটনায় ফিরে আসছে এই প্রশ্নই। এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি রেলের।

অন্যদিকে, পাঞ্জাবের ফতেগড় সাহেবে রেললাইনে বিস্ফোরণ। পুলিশসূত্রে খবর, বিস্ফোরণের জেরে আহত হয়েছেন ট্রেনের চালক। শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। যদিও বিস্ফোরণে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই খবর।