কলকাতা: পুজোয় ফের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড দক্ষিণ কলকাতায়। ভোররাতে বাঘাযতীন মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দোকানগুলিতে। মুহূর্তেই পুড়ে ছাই একাধিক দোকান। ভরা পুজোর মধ্যে রাতারাতি সর্বস্বান্ত বহু ব্যবসায়ী। শেষ অবধি পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ঘণ্টার চেষ্টায় দমকলের ১৫টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, দুর্গাপূজা নিয়ে 'অবমাননাকর মন্তব্য', মহম্মদ সেলিমের নামে থানায় দায়ের হল অভিযোগ

Continues below advertisement

এর আগে, স্টিফেন কোর্ট থেকে, নন্দরাম মার্কেট, কলকাতার বুকে একের পর এক ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেছে বহু, সাম্প্রতিককালে, তারাপীঠ থেকে নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ডেও মৃত্যু এড়ানো যায়নি। সেসমস্ত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বাড়তি সতর্ক দমকল। মূলত পুজোর আগে থেকেই এবার 'স্ক্যানারে' ছিল কলকাতার হাসপাতালগুলির অগ্নিবিধি।

গত শনিবার সকালে, কলকাতার EM বাইপাসের ধারে, একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নি-সুরক্ষা অভিযান চালায় দমকল। আগুন লাগলে কী করণীয়? কীভাবে, তা শনাক্ত করা হবে? প্রাথমিকভাবে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে কীভাবে? খাদ্যসুরক্ষার পর পুজোর আগে এবার 'স্ক্যানারে'। কলকাতার হাসপাতালগুলির অগ্নিবিধি। গত শনিবার সকালে, কলকাতার EM বাইপাসের ধারে, একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে চলে অগ্নি-সুরক্ষা অভিযান। সকাল ১১টা নাগাদ, আনন্দপুরের, ডিসান হাসপাতালে সরেজমিনে, পরিদর্শন করেন দমকলের আধিকারিকরা। প্রথমেই তাঁরা চলে যান গ্রাউন্ড ফ্লোরে। কলকাতার মধ্যে, একমাত্র ডিসান হাসপাতালেই রয়েছে রুফটপ হেলিপ্যাড। মূলত, আপতকালীন পরিস্থিতিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে, রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া বা অন্য় কোথাও স্থানান্তর করার জন্য়ই এই ব্য়বস্থা। শনিবার, এই রুফটপেরও অগ্নিবিধি খতিয়ে দেখা হয়। এরপর, ফর্টিস হাসপাতালেও যায় দমকলের টিম। প্রত্যেক ফ্লোরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন অফিসাররা। এই হাসপাতালের গ্রাউন্ড ফ্লোরেই মজুত করা রয়েছে নিজস্ব এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। সেখানকার পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়। এদিন, আলিপুরের কোঠারি হাসপাতালেও যায় দমকলের বিশেষ টিম। 

সম্প্রতি নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে এক শিশু-সহ ন'জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তবে ওই ঘটনার পর পাল্টা বর্তমান সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলে দিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি বলেছিলেন, বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সভাপতি, সবাই মিলে ঢাকঢোল বাজাচ্ছেন। এটা তো একদিনে তৈরি আর হয়নি? যিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী , তিনি সাড়ে ৯ বছর তৃণমূলের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি সারা কলকাতার সব জানতেন।' এরপরেই তৎকালীন বিরোধী দলনেতা প্রসঙ্গেও আক্রমণ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে বলতেন, 'আমি সব জানি। কিন্তু কিছু করতে পারছি না। আমি বিরোধী দলনেতা'। আমরা বলেছিলাম, স্বাগত জানাই বাংলসার উন্নয়ন করুন।'