পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা: শেষপর্যন্ত অর্থই কি অনর্থের মূল হল? টাকার জন্যই ছেলের হাতে খুন হয়েছেন বাঘাযতীনের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা? বাঘাযতীনে বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উঠে আসছে এমনই সম্ভাবনার কথা। এরই মধ্যে অবশেষে বাঘাযতীনে খুনের কিনারা। মাকে খুনের পর থানায় এসে আত্মসমর্পণ ছেলের।
মাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিল ছেলে। অবশেষে পাটুলি থানায় এসে আত্মসমর্পণ। ডিপ্রেশন থেকে খুন, জেরায় স্বীকার ছেলের, পুলিশ সূত্রের খবর।
স্থানীয় সূত্রে খবর ছিল, বুধবার এই ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় পাটুলি থানায় খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ দরজার তালা ভেঙে মালবিকা মৈত্রর আধপোড়া দেহ উদ্ধার করে। মৃতার মুখে পাশবালিশ চাপা দেওয়া ছিল বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
দক্ষিণ কলকাতার একটি নামী সকুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা মালবিকা মৈত্র, ছেলের সঙ্গে বাঘাযতীনের বিদ্যাসাগর কলোনির ভাড়ার ফ্ল্যাটে থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, কিছুদিন আগে অস্ত্রোপচার হয়েছিল বৃদ্ধার। তারপর থেকে শয্যাশায়ী ছিলেন। তাঁকে দেখভালের জন্য আয়া রাখা হলেও, কয়েকদিন আগে তাঁকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। বুধবার বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হলেও, বেপাত্তা তাঁর ছেলে অভিষেক মৈত্র। যিনি পেশায় বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী ।
এমনকী তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন করা হলে সেটা নট রিচেবল বলছে বলে, পুলিশ সূত্রে দাবি। সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন সপ্তাহখানেক আগে নাকি নিজের মোবাইল ফোনের সিমকার্ড বদলেছিলেন মৃতের ছেলে। এমনকী তাঁর নতুন নম্বর কারও কাছে নেই বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশ সূত্রে দাবি, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মালবিকা মৈত্রর অ্যাকাউন্ট থেকে সোমবার সাড়ে ৯ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার হয়েছিল ছেলের অ্যাকাউন্টে। শুধু তাই নয়, দেখা যাচ্ছে, মাঝেমধ্যেই বৃদ্ধার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার হয়েছে অভিষেকের অ্যাকাউন্টে। অভিষেক মৈত্রর অ্যাকাউন্টে এখন ১৯ লক্ষ টাকা আছে।
সেই রহস্যভেদ করতেই পাটুলি থানার পাশাপাশি তদন্তে নেমেছিল লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।