মুন্না আগরওয়াল, বালুরঘাট : পুজো আসতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। মৃন্ময়ী দেবীপ্রতিমা প্রায় তৈরি। এবার সেই মূর্তিকে চিন্ময়ী রূপে আবাহনের পালা। তার আগে আবরণ ও আভরণে সেজে উঠবে দেবীপ্রতিমা। বেশ কয়েক বছর ধরে প্রতিমার সাজসজ্জা তৈরিতে বিশেষ নজর কেড়েছেন বালুরঘাটের শিল্পী দেবজ্যোতি মোহরা। জেলা থেকে জেলা, দেশ থেকে দেশান্তরে যায় তাঁর হাতে তৈরি সাজসজ্জা। এবছরও বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে গিয়েছে তাঁর সৃষ্টি। কখনও জড়ি, নানারকমের পুঁতি, সুতো-দড়ি কিংবা গাছের ছাল তিনি ব্যবহার করে থাকেন প্রতিমার সাজসজ্জা তৈরিতে। বালুরঘাটের নেপালীপাড়ার বাসিন্দা দেবজ্যোতি মোহরা কখনো কারও কাছে হাতের কাজ শেখেননি। নিজেই শুরু করেছেন। আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করেন মায়ের নিত্যনতুন সাজ। তাঁর সৃষ্টি এখন সারা বিশ্বে সমাদৃত। গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ার পুজোতেও গিয়েছিল তার তৈরি সাজসজ্জা। তার সঙ্গে অক্লান্ত কাজ করে চলেছেন ১২ জন সহযোগী।
পড়াশোনার ফাঁকে সংসারের দায়ভার সামলাতে তিন-চার বছর আগে থেকে এই কাজ নিয়মিত করতে শুরু করেন দেবজ্যোতি। তবে প্রায় বছর আটেক ধরে হাত পাকাচ্ছেন। ছোটবেলায় বাড়ির পুজোর জন্য নিজের হাতে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছিলেন দেবজ্যোতি। সেই থেকেই প্রতিমা সাজানোর নেশা তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবছরও চৈত্র মাস থেকে তার ব্যস্ততা তুঙ্গে। সঙ্গে আছেন আরও প্রায় ১২ জন পুরুষ ও মহিলা। কেউ রুজি - রুটির টানে, কেউ আবার স্রেফ ভালবাসার তাগিদেই এই কাজে যুক্ত। পরিবারের অভাব-অনটন, বিশেষ ক রে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ সামলাতে পড়াশোনার পাশাপাশি দেবজ্যোতি এই কাজকেই বেছে নিয়েছেন জীবিকা হিসেবে।
এভাবে যে তাঁর কাজ সমাদৃত হবে দেশে-বিদেশে ভাবেননি কখনও। নেশা আর পেশা এখন মিলেমিশে একাকার। দেবজ্যোতি মোহরার কথায়, এলাকার লোকজনও আগে বাইরে থেকে প্রতিমার সাজ আনাত। এখন অনেকেই ভারসা রাখেন তাঁর উপর। আগে শখে অল্প অল্প করে তৈরি করতেন কিন্তু এখন অনেক পরিমাণে প্রতিমার সাজের অর্ডার পান। কলকাতা, শিলিগুড়ি, সব জায়গায় পৌঁছে যায় তার কাজ। আগামী দিনে আরও প্রশংসিত হবে, আশা রাখেন তিনি। ২০২৫ সালের পুজোর সূচি মহালয়া: ২১শে সেপ্টেম্বরমহাসষষ্ঠী: ২৮শে সেপ্টেম্বরমহাসপ্তমী: ২৯শে সেপ্টেম্বরমহাষ্টমী: ৩০শে সেপ্টেম্বরমহানবমী: ১লা অক্টোবরবিজয়া দশমী: ২রা অক্টোবর