জয়রামবাটি - কামারপুকুর। বাঙালির আবেগ। মা সারদার আবির্ভাবভূমি হুগলি জেলার জয়রামবাটি যাওয়ার জন্য কোনও টারা রেলরুট ছিল না। তাই হাওড়া থেকে জয়রামবাটি ট্রেনে চড়ে যেতে হলে গোঘাট পর্যন্ত গিয়ে সড়কপথে যেতে হত । কেউ যদি বাঁকুড়া হয়ে জয়রামবাটি যেতে চাইতেন, তাহলে বাঁকুড়া-ময়নাপুর মেমু লোকালের উপর নির্ভর করতে হত। এবার সেই রেলপথই প্রশস্ত হচ্ছে সারদা মায়ের জন্মভিটের গ্রাম জয়রামবাটি পর্যন্ত। আজ রবিবার, ১৮ জানুয়ারি থেকে একটি ট্রেনে চেপেই পৌঁছে যাওয়া যাবে  জয়রামবাটি। এই নতুন রেলপথের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

জয়রামবাটি ট্রেনে চেপেই যাওয়া যাবে

বাঁকুড়া থেকে এ বার  সারদা মায়ের জন্মস্থান জয়রামবাটি ট্রেনে চেপেই যাওয়া যাবে। বাঁকুড়া-ময়নাপুরের মধ্যে চালু ছিল একটি লোকাল মেমু ট্রেন। সেটিই এখন জয়রামবাটি পর্যন্ত যাবে। সোমবার ১৯ জানুয়ারি থেকে রোজ চলবে এই ট্রেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।  বাঁকুড়া ও ময়নাপুরের মধ্যে রয়েছে ৮ টি ট্রেন। জয়রামবাটি, বড়গোপীনাথপুর, ময়নাপুর, গোকুলনগর , জয়পুর, বিরসামুণ্ডা, বিষ্ণুপুর জংশন, রামসাগর, ওন্দাগ্রাম, ভেদুয়াসোল, বাঁকুড়া।  

রেল কী জানালো?

রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, '৬৮০৯৬/৬৮০৯৫ বাঁকুড়া-ময়নাপুর-বাঁকুড়া এমইএমইউ প্যাসেঞ্জার ট্রেনের পরিষেবা জয়রামবাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে। একটি উদ্বোধনী স্পেশাল ট্রেন অর্থাৎ ০৮০৯৫ জয়রামবাটি-বাঁকুড়া মেমু উদ্বোধনী স্পেশাল ১৮.০১.২০২৬ তারিখে জয়রামবাটী থেকে বাঁকুড়া পর্যন্ত নিম্নলিখিত স্টপেজ ও সময়সূচি অনুযায়ী চলবে' 

ট্রেনের সময়সূচি

১৮ জানুয়ারি এই রেলপথের সূচনা হবে।  ০৮০৯৫ জয়রামবাটি-বাঁকুড়া মেমু চলবে। রবিবার উদ্বোধনী ট্রেনটি দুপুর ২টো ৪৫ মিনিটে জয়রামবাটি থেকে ছাড়বে। বাঁকুড়া পৌঁছবে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে। এরপর দিন ১৯ জানুয়ারি থেকে এই ট্রেনটি  বাঁকুড়া ও জয়রামবাটীর মধ্যে আপ ও ডাউন একবার করে চলবে।                     

আগেই  বাঁকুড়া থেকে ময়নাপুর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ ছিল। এ বার ময়নাপুরের সঙ্গে জুড়ে গেল জয়রামবাটি। পরবর্তীতে জুড়ে যেতে পারে শ্রীরামকৃষ্ণের জন্মভিটের গ্রাম কামারপুকুরও। শনিবার মালদা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করেন, মালদা টাউন স্টেশন থেকে হাওড়া-গুয়াহাটি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। নতুন বছরে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে এসে বাঙালি আবেগের হাওয়া নিজেদের পালে টানার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।  কিন্তু শেষ অবধি পশ্চিমবঙ্গ রায় দেবে কার পক্ষে? সেটাই দেখার।