প্রসূন চক্রবর্তী, বাঁকুড়া: লাগাতার হাতির তান্ডবে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি, সংগ্রামপুর বিট অফিসে বিক্ষোভ ক্ষতিগ্রস্থদের। বারংবার হাতির তান্ডবে বিপন্ন জীবন জীবিকা। হাতিগুলিকে তাড়ানোর ব্যপারে কোনো পদক্ষেপ করছে না বন দফতর। এই অভিযোগেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। প্রতিবাদে বন দফতরের বাঁকুড়ার (Bankura News) বড়জোড়া রেঞ্জের সংগ্রামপুর বিট অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় কৃষকেরা। 

Continues below advertisement

বাঁকুড়া জেলায় প্রায় চার মাস কাটিয়ে সম্প্রতি দফায় দফায় বেশ কিছু হাতি পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলে ফিরে গেলেও এখনো দলছুট ২৪ টি হাতি থেকে গেছে বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের বিভিন্ন জঙ্গলে। উত্তর বন বিভাগের বড়জোড়া রেঞ্জের বনশোল এলাকায় ২ টি, সাহারজোড়ার জঙ্গলে ২ টি,  বেলিয়াতোড় রেঞ্জের রসিকনগর জঙ্গলে ১ টি, লাদুনিয়ার জঙ্গলে ২ টি,  কাঁটাবেশিয়ার জঙ্গলে ১১ টি এবং সোনামুখী রেঞ্জের রানীবাঁধের জঙ্গলে ৪ টি হাতি এখনও রয়েছে।

এই হাতিগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি হাতি গত কয়েকদিন ধরে বড়জোড়া রেঞ্জের সংগ্রামপুর বিটের অধীন বিভিন্ন জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে। হাতির তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এলাকার বিঘের পর বিঘে জমির ফসল। বারংবার বন দফতরকে পদক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েও লাভের লাভ কিছুই হয়নি। অবশেষে কাজ না হওয়ায় আজ বন দফতরের স্থানীয় সংগ্রামপুর বিট অফিস ঘেরা করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্ষতিগ্রস্থরা।

Continues below advertisement

ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি হাতির তান্ডবে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সে তুলনায় ক্ষতিপূরণ মিলছে সামান্যই। এই অবস্থায় ক্ষতিপূরণ নয়, অবিলম্বে এলাকা থেকে হাতিগুলিকে অন্যত্র তাড়ানোর ব্যবস্থা করুক বন দফতর। এরপরেও যদি বন দফতর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না কর, তাহলে আগামীদিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য এই বাঁকুড়ায় গত সপ্তাহে পথ দুর্ঘটনার বলি হন এক ৪০ বছর বয়সি শ্রমিক। বালি বোঝাই লরির ধাক্কায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ায়। ঘটনাটি ঘটেছে সোনামুখী থানার বোন্দলহাটি এলাকায়। মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে দেহ রাস্তায় রেখে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি রাত এগারোটা নাগাদ স্থানীয় নাচনহাটি এলাকা থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন প্যন্ডেল শ্রমিক প্রশান্ত ভুঁই। বাড়ি ফেরার পথে একটি বালি গাড়ি তাঁকে চাপা দিলে ঘটনায় গুরুতর জখম হন বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি। ঘটনার পর গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে প্রথমে সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালে ও পরে তড়িঘড়ি বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওই ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাঁকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়। 

কিন্তু গুরুতর জখম প্রশান্তর শেষ রক্ষা হল না। দুর্গাপুরের বেসরকারি নার্সিংহোমেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল তাঁর মৃত্যু হয়। আজ, রবিবার ওই ব্যক্তির দেহ গ্রামে ফিরতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।