শুক্রবার বেলডাঙায় তাণ্ডবের সময় দেখা যায়নি পুলিশকে। শনিবারও বেলডাঙায় অবরোধ তাণ্ডবের পর, অবশেষে সেখানে অ্যাকশনে নামল পুলিশ। লাঠিচার্জ করে তুলে দেওয়া হল অবরোধকারীদের। 

Continues below advertisement

শুক্রবারের পর শনিবার। ফের প্রতিবাদের নামে বেলাগাম গুন্ডামি দেখল বেলডাঙা। বিক্ষোভের নামে চলল গুন্ডামি। আর শুক্রবারের পর শনিবারও সকাল থেকে ঘুরপাক খেল একটাই প্রশ্ন- কী করছে পুলিশ? বিতর্ক, সমালোচনার মুখে বেলাশেষে সক্রিয় হতে দেখা গেল উর্দিধারীদের। 

সকাল গড়িয়ে, দুপুরে লাঠি-টিয়ার গ্যাস নিয়ে নামল পুলিশ। ফলে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নটা রয়েই গেল। কেন রাস্তায় নামতে পুলিশের প্রায় ৩০ ঘণ্টা লেগে গেল? শুক্রবার দিনভর তাণ্ডবের পরও শনিবার কী করছিল পুলিশ? শনিবার ফের তাণ্ডবের সুযোগ মিলল কী করে? ফের গন্ডগোল বাধতে পারে, সেই খবর কি ছিল না পুলিশের কাছে? 

Continues below advertisement

তাহলে বিক্ষোভের নামে পরপর দু'দিন এই তাণ্ডব চলল কী করে? ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট হল কী করে? বাস ভাঙচুর হল কী করে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেল অবরোধে যাত্রীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হল কেন? এবিপি আনন্দর সাংবাদিক এবং চিত্র সাংবাদিককে আক্রান্ত হতে হল কেন?

শুক্রবার থেকে শনিবার। নৈরাজ্যের আগুনে জ্বলেছে বেলডাঙায়। এরই মধ্যে সামনে এসেছে এই পোস্ট। তাণ্ডবের ঠিক আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, সোশাল মিডিয়ার বেলডাঙ্গা মুর্শিদাবাদ নামে একটি গ্রুপে এই পোস্ট করা হয়।

যেখানে মৌলানা সওকত আলি আলবানি নামে একজন লেখেন, SIR-এর বিরুদ্ধে আগামী শুক্রবার আন্দোলনের জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ নরেন্দ্র মোদি আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে খেলা খেলছে।  পোস্টের আরেকটি অংশে মৌলানা সওকত আলি আলবানি আরও লেখেন, ২০২০ সালে যখন NRC-র কথা মোদিজি বলেছিলেন, তখন বেলডাঙা রেল স্টেশন ও থানায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ঠিক তেমনই এর বিরুদ্ধেও লড়তে গেলে, আমাদের BDO  অফিস, থানা ও রেল স্টেশন জ্বালিয়ে আবার দেখাতে হবে, SIR-এর আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।

এখানেই প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ এই পোস্টের কথা আগে জানলে, আগেভাগেই তারা তৎপর হয়নি কেন? শনিবার মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিককে বিহারে মারধরের অভিযোগে, শনিবার যে বড়ুয়ামোড়ে অশান্তি হয়, সেখানে থেকে বেলডাঙা থানার দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর সেখানে আসতে পুলিশের আসতে লেগে যায় ১ ঘণ্টারও বেশি সময়। দুপুরে বড়ুয়ামোড়ে আন্দোলনকারীদের সরায় পুলিশ। বেলডাঙা স্টেশনে আরপিএফকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠানো শুরু হয়। 

বারবার যখন প্রশ্ন উঠছে, এত দেরি কেন? এত কিছু হয়ে যাওয়ার পর কেন? তখনও পুলিশ সুপারের মুখে শোনা গেল ধৈর্য রাখার কথা! মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, 'পরিযায়ী শ্রমিক নিয়ে কিছু ইস্যু ছিল, কাল আমরা অনেকটা কথা বলেছি, ধৈর্য রেখে কথা বলেছি, কিন্তু সব জিনিসের একটা সীমা থাকে, (সীমা পেরিয়ে গেলে) সেটা আমরা বরদাস্ত করব না।' 

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজাও। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করা হবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে।