কলকাতা: বেহালার পলিটেকনিক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু। হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় গঙ্গার ঘাট থেকে উদ্ধার হল ৭ দিন ধরে নিখোঁজ ছাত্রের পচাগলা মৃতদেহ। বছর ১৯-এর হার্দিক দাস বেহালার সেনহাটি কলোনির বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে খবর, জ্ঞান ঘোষ পলিটেকনিকের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া হার্দিক গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কলেজ যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। রাতে না ফেরায়, বেহালা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

পরিবারের দাবি, নিখোঁজ পড়ুয়ার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে টালা ও দমদম স্টেশনে টাওয়ার লোকেশন মেলে। রেল পুলিশের দেওয়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই ছাত্রকে দমদম স্টেশনে এক যুবকের সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায়। এরপরই মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল উলুবেড়িয়ার হীরাপুরে গঙ্গার ঘাট থেকে নিখোঁজ ছাত্রের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। কীভাবে মৃত্যু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ইচ্ছে ছিল লোকোপাইলট হওয়ার। যাত্রীদের নিয়ে দূরে কোথাও পাড়ি দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকত সে। কিন্তু ট্রেনের ছবি তুলতে দমদম স্টেশনে গিয়ে সেই ছাত্রের জীবনের চাকা যে এভাবে থেমে যাবে, কে জানত!

৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে উলুবেড়িয়ার হীরাপুরে উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের পচাগলা দেহ। লালবাজারের ফোন পেয়ে, সেখানে গিয়ে একমাত্র ছেলের দেহ শনাক্ত করে পরিবার। মৃত ছাত্রের নাম হার্দিক দাস (১৯)। বেহালার সেনহাটি কলোনির বাসিন্দা ছিলেন তিন। 

খুন না কি আত্মহত্যা? তদন্তে পুলিশ। জ্ঞান ঘোষ পলিটেকনিক কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন, হার্দিক। পরিবার সূত্রে খবর, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে কলেজ যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। কলেজ পৌঁছে বাবাকে মেসেজ পাঠান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে না ফেরায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বেহালা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। 

পরিবারের দাবি, নিখোঁজ পড়ুয়ার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে টালা ও দমদম স্টেশনে টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যায়। রাতেই দমদম স্টেশনে যান বাবা।  রেল পুলিশের সাহায্যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় এক যুবকের সঙ্গে কথা বলছেন ওই ছাত্র। পরে ওই যুবক হার্দিকের নতুন ফোন নিয়ে চম্পট দেন। 

মৃত ছাত্রের বাবা হিমাদ্রী দাস জানাচ্ছেন, দমদম স্টেশনের ৪-৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘক্ষণ ছবি তোলে। তারপর এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি আলাপ করে। ফোনটা চেয়ে নিয়ে কথা বলার ভঙ্গীমায় চুরি করে নিয়ে যায়। ফোন বন্ধ হয়ে যায়।

এতদিন ধরে রেল সংক্রান্ত তথ্য হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার জেরেই কি এই ঘটনা? তেমনই অনুমান বাবার। হিমাদ্রী দাস আরও জানিয়েছেন, রেল লাভার ছিল। রেল সংক্রান্ত অনেক তথ্য ছিল, সেটা হারিয়ে যাওয়ার ফলেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ৩-৪ ঘণ্টা স্টেশনে খোঁজে। পায়নি।

মৃত ছাত্রের বাবার সহকর্মী অরুণ রায় বলছেন, আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নয়, কীভাবে এইটা ঘটল, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করার পর। বেহালা থানার পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সাঁতার জানতেন না হার্দিক। কীভাবে তিনি জলে পড়লেন, ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল, খতিয়ে দেখা পুলিশ। মৃতের দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি।