কলকাতা: গতকাল রাজ্য বাজেট পেশের আগে বিরোধীদের একহাত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার রাজ্য বাজেট নিয়ে এদিন তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট বলেন,  'আপনি স্বপ্ন দেখছেন চতুর্থবারের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সেই স্বপ্নপূরণ হতে দেবে না।'   

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, মুখ্যমন্ত্রীর 'হাম্পটি-ডাম্পটি' মন্তব্য ঘিরে বিধানসভায় তুলকালাম, ওয়াক আউট BJP-র

Continues below advertisement

এদিন শুভেন্দু বলেন, "যেদিন থেকে নোটিফিকেশন , সেদিন থেকেই নির্বাচন বিধি কার্যকর হয়। ...নির্বাচন কবে ঘোষণা হবে, কমিশনের বিষয়, আমাদের বিষয় নয়। সেই কারণে এটাকে পূর্ণাঙ্গ বাজেট বলা যায় না। ভোট অন অ্যাকাউন্ট করা হয়। এপ্রিল-মে-জুন-জুলাই। ঠিক একইভাবে ২০২৪-এ , লোকসভার ক্ষেত্রেও ভারতবর্ষের তৎকালীন, অর্থমন্ত্রী অর্থাৎ বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণজি একই জিনিস করেছেন। এটাতে বিশেষ বিশেষ ঘোষণা প্রতিশ্রুতি হয় না। মূলত, সরকারিদের রেকারিং এক্সপেনডেচার, চলমান প্রকল্প, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প ভাতা ইত্যাদি....যে যা পান, সেটাকে চালানোর জন্য, চার মাসের একটি ভোট অন অ্যাকাউন্ট করা হয় অন্তর্বতী বাজেটে। এবং নতুন যে সরকার আসবে, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারকে আনবে, যারা ১৪৮ প্লাস পাবে, তাঁরা মে মাসে, নবগঠিত বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট আনবে।"

শুভেন্দু আরও বলেন, "SIR আটকানো তৃণমূলের মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার আনবে। ভোটারদের একাংশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা তৃণমূলের। তৃণমূল জানে নির্বাচনে তারা হারবে। বাজেটে বেকারদের কথা নেই। NBSTC কর্মীদের নাম বাজেটে নেই। চাকরির কথা নেই, শুধু ভাতায় জোর রাজ্যের। ফেব্রুয়ারিতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ৫০০ টাকা বাড়ল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে বাজেটের কোনও সম্পর্ক নেই।রাজ্যে চাকরি নেই, ভিনরাজ্যে এরাজ্যের বহু শ্রমিক। পশ্চিমবঙ্গে বহু মানুষ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে কাজে যাচ্ছেন। ভিন রাজ্যে কাজে গিয়েও প্রাণ যাচ্ছে বহু পরিযায়ী শ্রমিকের। ২০১৩ সাল থেকে মিথ্যাচার চালাচ্ছে তৃণমূল। চাকরির পরীক্ষায় জালিয়াতি, ভয়ঙ্কর আকারে ধারণ করেছে রাজ্যে। গোটা শিক্ষা দফতর গারদে, মুখ্যমন্ত্রী চাকরি দিতে ভয় পাচ্ছেন।'

মূলত, গতকাল ছিল বিধানসভা ভোটের আগে, তৃণমূলের তৃতীয়বারের সরকারের শেষ বাজেট। আর সেই বাজেটে, এভাবেই গতকাল বিরোধীদের আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। বলেন, আপনারা জিরো ছিলেন জিরো থাকবেন।বাংলায় হিরো ছিল, হিরো থাকবে। আমরা কোর্টেও জিতি, ভোটেও জিতি। শুভেন্দু বলেন, তৃণমূলের যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। হীরক রানি বাইবাই। বাইবাই। ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আসবে।