বিজেন্দ্র সিংহ, নয়াদিল্লি: মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথমবার দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণের পর দিল্লিতে গতকালই পৌঁছেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবং আজকে মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Continues below advertisement

ঘড়ির কাঁটায় সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং পরে বিজেপির কেন্দ্রীয় অফিসে যান শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গেও বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে রাষ্ট্রপতি-উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল দিল্লি গিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। 

ডবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ার পর সংকল্প পত্রতে বলেছিল বিজেপি , পশ্চিমবঙ্গকে সোনার বাংলা করা হবে, বারবারই জনসভাগুলিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই শুভেন্দু অধিকারীর প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একান্ত সাক্ষাৎ হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক পরিস্থিতি কী , তা আলোচনা হবে, তার সঙ্গে অন্য়ান্য ইস্যুগুলি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতায় ফিরে যাবেন।  ২ দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানী পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী।বিমানবন্দরে নামার পর তিনি সোজা চলে যান কৃষ্ণ মেনন মার্গে অমিত শাহর বাসভবনে। সেখানে ২ জনের মধ্যে ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট তুলে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। 

শুক্রবার দ্বিতীয় দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের স্তবক ও 'বন্দেমাতরম' লেখা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি উপহার দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই ছবি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির জন্য ওঁকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই। অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনায় তিনি পুনরায় “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ”-এর দর্শনকে সামনে রেখে, আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও অগ্রগতি কেন্দ্র সরকারের কাছে অন্যতম অগ্রাধিকারের বিষয়। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পশ্চিমবঙ্গকে অগ্রগতির পথে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন, আমি ওঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা এবং বাংলার মানুষের আস্থা ও সমর্থনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা পশ্চিমবঙ্গে স্বচ্ছ প্রশাসন, সুশাসন, সামগ্রিক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আগামীদিনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।