কলকাতা: এসআইআর ইস্যুতে এবার কমিশনকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে দিল্লিতে বসে। নির্বাচন কমিশনের ভুলে মিসম্যাচ হয়েছে। ৫৪ লক্ষের নাম বাদ কীভাবে ? বলছে ইআরও বাদ দিয়েছে, ভুল বলছে। ৫৪ লক্ষের বাদের তালিকায় বেশিরভাগই বৈধ ভোটার। ৫৪ লক্ষের নাম বাদ, তাঁরা জানেই না তাঁদের নাম বাদ গেছে। কাদের নাম বাদ গেছে, তাঁদের না জানালে তাঁরা জানবেন কী করে তাঁদের নাম বাদ গেছে।'
আরও পড়ুন, 'কমিশন এই ১০ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেছে.." ! কোচবিহারের র্যাম্পে হাঁটিয়ে বললেন অভিষেক
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,' খসড়া তালিকা বার করেছে নির্বাচন কমিশন। এত পাতা উল্টে দেখা সম্ভব নয়। কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সবচেয়ে বড় ভুল, নিজের স্বার্থে ও বিজেপির স্বার্থে মানুষকে খেলা করেছে। একই জিনিস হয়েছিল মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহারে, কেউ ধরতে পারেনি। ধরা পড়েছিল পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পর, তখন নোটিফিকেশন জারি করে দিয়েছিল, তখন সুযোগ পাওয়া যায়নি। মাইক্রো অবজার্ভার বিজেপি দলদাস। মানুষ ডমিসিয়াল সার্টিফিকেট, বার্থ সার্টিফিকেট, আধার কার্ড, হেলথ কার্ড নিয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বলা হচ্ছে এলিজিবল নয়। বিজেপির বিএলএ-২ নেই বলে, বিএলএ-২-দের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ৫৪ লক্ষের নাম বাদ এআই-কে দিয়ে করানো হয়েছে।লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এসআইআরে ছিল না, এটা দলদাসদের মাথা থেকে বেরোবে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ১ কোটি নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত।'
একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। বলেছেন, '১৩, ১৪ পর্যন্ত শুনানি হবে, হোয়াটসঅ্যাপে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায়। কোনও রাজ্যে মাইক্রো অবজার্ভার নেই, শুধু বাংলায় কেন ? অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়ে এসআইআর নয় কেন ? ৪টি রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, তার মধ্যে ৩টি বিরোধী শাসিত, সেখানেই নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সীমারেখা পার করে জীবন্ত মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মাইক্রো অবজার্ভার নির্দেশ দিলে মানতে বাধ্য নন। এখনও ৭০ লক্ষের শুনানি হয়নি। দেব তিনবারের সাংসদ, পাসপোর্ট আছে, তাও বাদ, লক্ষ্মীরতন শুক্ল, সামির নাম বাদ। ছলনা করে, দলদাস নির্বাচনকে দিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। একটি গাড়ির ভিতরে ৯ থেকে ১০ হাজার ফর্ম নিয়ে গেছে, নাম বাদ দেওয়ার জন্য, বিজেপি করছে। ফাইলের পর ফাইল, বস্তা বস্তা কাগজ, এটা মানুষের অধিকার চুরি নয় ? তথ্য, গণতন্ত্র চুরি করছে, জীবীতকে মৃত বলছে। বাংলাকে জয় করা যাবে না, ক্ষমতা থাকলে লড়াই করো, আড়াল থেকে এজেন্সিকে ব্যবহার করে বাংলা দখল করার চেষ্টা করবে না। যেখানে অনেক পেপার পাবে, সেখানে এফআইআর করবে।'