কলকাতা: বারুইপুরে অভিষেকের র্যাম্প ওয়াকে ৩ 'মৃত' ভোটার, BLO-কে শোকজের নির্দেশ কমিশনের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অনিচ্ছাকৃত ভুল নাকি অন্য কোনও কারণ? জানতে চায় কমিশন।
আরও পড়ুন, "এই পদ্ধতিতেই গলদ আছে.." ! SIR আবহে জ্ঞানেশ কুমারকে পঞ্চম চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর
মূলত, 'বেঁচে থেকেও SIR খসড়া তালিকায় মৃত', এমন অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় সরব হয়েছেন অনেকেই। সেই অভিযোগের আগুন সম্প্রতি নিজের সভায়, " র্যাম্পে তিনজন ভূতকে হাঁটিয়ে" উসকে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।এরপর র্যাম্পে সত্যিই তিন জনকে হাঁটিয়ে বলেন, 'এঁদের মৃত বানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন !' বলাইবাহুল্য, এ নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবার এই ইস্যুতেই BLO-কে শোকজের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের।
সভার দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই আজকে ব়্যাম্প হয়েছে, সবার খুব কৌতুহল, কেন ব়্যাম্প হয়েছে ? সংবাদ মাধ্যমেরও খুব কৌতুহল। যারা এসছেন আপনাদেরও কৌতুহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের কৌতুহল। যে হঠাৎ করে এত বড় ব়্যাম্প কেন ? কে হাঁটবে? এই ব়্যাম্পে আমি আজকে তিনজন ভূতকে হাঁটাবো। আপনারা দেখবেন ? এরপরেই অভিষেক তিনজনকে নিয়ে আসতে নির্দেশ দেন। এরপরে স্টেজে আসতে দেখা যায় তিনজনকে। যাদের মধ্যে দুই জন পুরুষ এবং একজন মহিলা। যাদের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম জিজ্ঞেস করতেই তিন জনে একে একে তাঁদের নাম জানান। মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ গিরি এবং মিসেস মায়া দাস।
এরপরে অভিষেকের কথায়, 'দুই ভদ্রলোকের বাড়ি মেটিয়াবুরুজ এবং বউদির বাড়ি কাকদ্বীপ বিধানসভা।' দর্শকাসনে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যে তাঁরা এই তিনজনকে সশরীরে দেখতে পাচ্ছে কিনা ? ওদিক থেকে উত্তর আসে হ্যাঁ। এরপরেই নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, ইলেকশন কমিশন এদেন দেখতে পাচ্ছে না, এদের মৃত ঘোষণা করে দিয়েছে। এই জন্য আমি ব়্যাম্প বানিয়েছি। আর এরকম তিনটে চারটে কেস না, খালি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ২৪ জন রয়েছে, যারা জীবন্ত, বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কিন্তু ওদের দেখিয়ে দিয়েছে মারা গিয়েছে। কোনও দিন মৃত ব্যাক্তিদের ব়্যাম্পে হাঁটতে দেখেছেন ? এই কারণে আমি তৈরি করেছি (ব়্যাম্প-র দিকে দেখিয়ে)।'
এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছিলেন, 'ভুল ভ্রান্তি হতে পারে, তবে তার সংখ্যা খুব কম। রিপোর্ট এলে BLO-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটা খসড়া তালিকা, এত ট্রান্সপারেন্সি আছে, একটাও রিপোর্ট আসেনি।', সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের থেকে রিপোর্ট চেয়েছিলেন সিইও, কমিশন সূত্র।
