সমীরণ পাল, ভাস্কর মুখোপাধ্য়ায়, অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা: শুনানি পর্বের মাঝে SIR আতঙ্কে মৃত্য়র অভিযোগ উঠল। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরে SIR আতঙ্কে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠল। অন্যদিকে, বীরভূমের রামপুরহাটে শুনানিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্য়ু হল একজনের। দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে।
আরও পড়ুন, "আমার কাছে সব পেনড্রাইভ করা আছে, লক্ষণ রেখা পার করলে, ফাঁস করে দেব..", হুঁশিয়ারি মমতার
ভোটার তালিকা সংশোধনের পর্ব চলছে। শুনানি পর্বের মাঝে কোথাও SIR-এর শুনানিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্য়ু হল, কোথাও SIR-এর শুনানির পর আত্মহত্য়ার অভিযোগ সামনে এল। বীরভূমের রামপুরহাটের বাসিন্দা কাঞ্চন মণ্ডল (৭৭)। পরিবার সূত্রে খবর, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় শুনানিতে ডাক পড়ে তাঁর। শনিবার রামপুরহাটের ১ নম্বর ব্লকে শুনানিতে হাজিরা দিতে সাইকেল নিয়ে যান তিনি।শুনানি কেন্দ্রে সাইকেল থেকে নামতে গিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের আত্মীয় উত্তম কুমার রুজ বলেন, আজকে ডেকেছিল। কী কারণে ডেকেছিল আমি জানি না। আমি বাড়ি ঢুকছি, তখন হাসপাতালে নিয়ে চলে এসেছে। সুস্থ মানুষ, সাইকেলে গিয়েছিলেন। রামপুরহাট বাসিন্দা প্রীতম মাহান্ত বলেন, উনি বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন, SIR-এর শুনানি ছিল। ওখানে সাইকেলে নামতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যায়। আমরা তৎপর করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। মারা গেছে। তাঁর নাকি ২০০২-এর নামের কোনও একটা গন্ডগোল ছিল। মৃত্য়ুর খবর সামনে আসতেই এ নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
তৃণমূল কংগ্রেস সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আজ, আমি আসার সময় শুনছি, বীরভূমে আবার একজন SIR-এর নোটিস পেয়ে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে কাঞ্চন মণ্ডল বলে একজন ভদ্রলোক, তিনি মারা গেছেন। ২ মাসের মধ্য়ে প্রায় ৭০ টা তরতাজা প্রাণ আমরা হারিয়েছি।
অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরে SIR-এর আতঙ্কে বিষ খেয়ে আত্মহত্য়ার অভিযোগ উঠল। উত্তর ২৪ পরগণার গোপালনগরের বাসিন্দা বলাই দাস। পরিবারের দাবি, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম ছিল না তাঁর। বৃহস্পতিবার SIR-এর শুনানিতে যান তিনি। পরিবারের দাবি, SIR জেরে আতঙ্কিত হয়ে শুক্রবার বিষ খান ওই ব্য়ক্তি। মৃত বলাই দাসের স্ত্রী প্রতিমা দাস বলেন, ৮ তারিখে বাড়ি এসেছে হিয়ারিং দিয়ে। বাড়ি এসে বসেছে মাথায় হাত দিয়ে। আমি বললাম বসেছো কেন? বলছে আমার মাথায় কোনও কাজ করছে না।লোকে বলছে তাড়িয়ে দেবে। এখানে রাখবে না। কোনও সুযোগ সুবিধা দেবে না তোমাকে। এ সমস্ত চিন্তাভাবনায় বসে পড়েছে। সকালে আত্মহত্য়া করেছে। মৃত বলাই দাসের মেয়ে কল্পনা দাস বলেন, আমার বাবা ৮ তারিখে ডেকেছিল শুনানির জন্য। আমার বাবা এতদিন কিছু করেনি।বাড়ি এসে আমার বাবা পরের দিন সকালে মা বাড়ি ছিল না। কেউ বাড়ি ছিল না। বাবা সুইসাইড করেছে। এদিকে এই মৃত্য়ুকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে তৃণমূল-বিজেপি তরজা। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, এই পরিবারটিকে মৃত্য়ুর মুখে ঠেলে দিলেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি এই সর্বনাশা খেলা শুরু করেছে। এভাবে মানুষকে মৃত্য়ুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। একটা পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে। বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, আজকে মারা গেছে বলাই দাস, একমাত্র তৃণমূলের কারণে। তৃণমূল যদি এই ভয়, এই আতঙ্ক সৃষ্টি না করত তাহলে আজকে বলাই দাস এভাবে মারা যেত না। সব মিলিয়ে SIR-আবহে মৃত্য়ু ঘিরে বিতর্ক জারি রয়েছে।