কলকাতা : গতকাল I-PAC-এর কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে ED-র তল্লাশি অভিযানের মাঝেই হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১৮ মিনিট পর হাতে মাইক্রোফোন, একটি মোবাইল ফোন ও সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। একদিকে ইডির হানা এবং অপরদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে উপস্থিতি নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। এই ইস্যুতে আজ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কী ফাঁস করে দেওয়ার কথা বললেন তিনি ?
আরও পড়ুন, 'IPAC-র জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এত মাথাব্যথা কেন, নিশ্চয়ই কোনও রহস্য আছে' ! মন্তব্য অধীরের
''আমার কাছে সব পেনড্রাইভ করা আছে, আমি কিন্তু ভান্ডার ফাঁস করে দেব..''
মমতা বলেন, 'আমি আপনাদের বলি, আমরা যদি করতে পারতাম না, অনেক কিছু করতে পারতাম। বলছে কয়লার টাকা, কে খায় ? অমিত শাহ খায়, হোম মিনিস্টার ! কী করে খায় ? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়।..সাথে আছে এক জগন্নাথ। জগন্নাথ ধামের জগন্নাথ নয়। পুরীর জগন্নাথ নয়। বড় ডাকাত বিজেপির। জগন্নাথের মাধ্যমে টাকা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর শুভেন্দু অধিকারীর কাছে টাকা যায়, অমিত শাহর কাছে। শুনুন আপনাদের ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে ওই পেনড্রাইভগুলি বাইরে বের করে দেই না। বেশি রাগালে কিন্তু বলে দিচ্ছি, আমার কাছে সব পেনড্রাইভ করা আছে। আমি কিন্তু ভান্ডার ফাঁস করে দেব। আমি একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্যতা রেখে চলি। কিন্তু মনে রাখবেন, লক্ষণের একটা সীমারেখা আছে। লক্ষণের সীমারেখা পেরিয়ে গেলে কিন্তু, আর সামলে রাখতে পারবেন না। আমি অনেক কিছু জানি। বলি না শুধু দেশের স্বার্থে। আমি মুখ খুললে, সারা পৃথিবীতে হইচই হবে। কিন্তু আমি করি না, দেশটাকে ভালবাসি বলে। কিন্তু এটা দুর্বলতা নয়।'
গতকাল ঠিক কী হয়েছিল ?
সূত্রের খবর, গতকাল সকাল ৭টা নাগাদ প্রথমে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছে যায় ED-র টিম। সকাল ৭টা ১০ নাগাদ ED-র আরও একটি টিম লউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যায়। বহুতলের চারতলায় প্রতীক জৈনের ফ্ল্যাটে চলে তল্লাশি।আর তার মধ্যেই হঠাৎ,সকাল ১১টা ৫৫ লাউডন স্ট্রিটে I PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বা়ড়িতে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। এর ৫ মিনিটের মধ্যে বেলা ১২টায় আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ির সামনে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় ১৮ মিনিট পর হাতে মাইক্রোফোন, একটি মোবাইল ফোন ও সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্য়মন্ত্রী।