অর্ণব মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা: পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লি দুর্গাপুজো কমিটির খুঁটিপুজোয় উঠে এল বাংলাভাষীদের হেনস্থার প্রসঙ্গ। খুঁটিপুজোর দিন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। পাল্টা দাঁড়িভিটকাণ্ড থেকে নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে খোঁচা বিজেপি কাউন্সিলর ও সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির অন্য়তম উদ্য়োক্তা সজল ঘোষের।
ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর অত্য়াচারের অভিযোগ ঘিরে যখন সরগরম রাজ্যরাজনীতি! বাংলা, বাঙালি, বাংলা অস্মিতা যখন ঢেউ তুলছে রাজ্য-রাজনীতিতে। সেই আবহেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। খুঁটিপুজো থেকে পুজোর থিমেও লেগেছে তার ছোঁয়া। পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লির খুঁটিপুজোতে উঠে এল, ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্থার প্রসঙ্গ। পুজোর অন্যতম উদ্য়োক্তা কলকাতা পুরসভার ২৪ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ইলোরা সাহা। পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লি দুর্গাপুজো কমিটি তৃণমূল কাউন্সিলর ও সভাপতি ইলোরা সাহা বলেন,'আমরা বাঙালি, আমাদের মায়ের ভাষা বাংলা। এর অপমান, এর অমর্যাদা এবং বাঙালিদের অমর্যাদা পৃথিবীর কোথাও আমরা মেনে নেব না। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের দেশের বিজেপি শাসিত রাজ্য়গুলিতে বাঙালিদের ওপর যে অপমান, লাঞ্ছনা নেমে আসছে, তার আমরা তীব্র প্রতিবাদ করছি। আমাদের এবার পুজোর থিমই বাংলা।'
খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন কলকাতা দক্ষিণের তৃণমূল সাংসদ মালা রায়।তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায় বলেন, বাংলার মানুষকে বাদ দিয়ে পুজো হয় না। এখন আমরা বাংলা নিয়ে সোচ্চার। আমরা আজকে লোকসভাতেও বাংলায় বলছি। আমরা অন্য়ান্য জায়গাতেও বাংলাতে বলব, বাংলা ভাষাকে তুলে ধরব বিশ্বের কাছে। তাই জন্য এই আয়োজন। পুজোর থিম ঘিরে প্রতিবারই টক্কর চলে। এবার খুঁটিপুজো ঘিরে শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক টক্কর।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির বিজেপি কাউন্সিলর ও উদ্যোক্তা সজল ঘোষ বলেন, 'বাংলা ভাষার অপমান এটা খুবই দুর্ভাগ্য়জনক। আমার মনে হয় ওখানে রাজেশ-তাপসের ছবি থাকবে। কারণ বাংলা ভাষার প্রথম শহিদ যাদের সরকার গুলি করে মেরেছিল। যে বাংলা শিক্ষকরা যারা ২৬ হাজার রাস্তায় বসে আসে তাদের বসতে দেওয়ার জায়গা দিতে হবে।' শুধু খুঁটি পুজোতেই নয়, পুজোর থিমেও থাকছে বাঙালিআনা।পাথুরিয়াঘাটা পাঁচের পল্লি দুর্গাপুজো কমিটি এবারের থিম 'এই শহর, সেই সময়'। থিমের মাধ্য়মে আজকের এই শহরের বাংলা ভাষা আর বাঙালির ইতিহাসকে তুলে ধরার চেষ্টা হবে।