বাপন সাঁতরা , আরামবাগ: প্রায় দেড় দশক পর অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে জট কাটতে চলেছে গোঘাটের ভাবাদিঘি এলাকায় থমকে থাকা তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের। বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী তিন মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান করে রেল প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে। ভাবাদিঘি নিয়ে জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এমনই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। এরপরই কবে রেল চালু হবে? তার আশায় দিন গুনতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। যদিও দ্রুত রেল প্রকল্পের কাজ শুরু করুক কিন্তু 'দিঘি বাঁচিয়েই রেল লাইন হোক' জানালেন, দিঘি বাঁচাও কমিটির সদস্যরা।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তারকেশ্বর থেকে বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তারপর ধাপে ধাপে শুরু হয় রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পরবর্তীতে মাটি ফেলার কাজ। কিন্তু ২০১০ সালে গোঘাটের ভাবাদিঘি গ্রামে দিঘি জটে আটকে যায় রেললাইন তৈরির কাজ। ভাবাদিঘি গ্রামের মানুষের পক্ষ থেকে দাবি ওঠে গ্রামের ৫২ বিঘা দিঘিই জীবন জীবিকার অন্যতম ভূমিকা পালন করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সেই দিঘি ভরাট করে রেললাইন করা যাবে না। দিঘির পাশের জমি দিয়ে রেল লাইন নিয়ে যাওয়া হোক বলে প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন ভাবাদিঘির মানুষ।
এই দাবি নিয়ে বারেবারে আন্দোলনে নামতে দেখা যায় ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটিকে। তারকেশ্বর থেকে আরামবাগ ও পরে গোঘাট পর্যন্ত রেল পরিষেবা চালু হলেও ভাবাদিঘি জটে আটকে যায় রেল লাইনের কাজ। এবার হাইকোর্টের নির্দেশে কাটতে চলেছে সেই জট।একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট নির্দেশ দেন আড়াইশো জনের জন্য আড়াই লক্ষ মানুষের স্বার্থে আঘাত দেওয়া যাবে না। জটিলতা কাটিয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে রেল প্রকল্পের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিন রায়ের পর এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের এখানে আমরা অনেকদিন আগে থেকেই চাইছি রেল হোক, রেল হোক। হয়তো সবাই আমার মতোই একই কথাই বলবে, যদি এই রায়টা আরও আগে হত, হয়তো আরও ভাল হত। আমার মতো কিছু সাধারণ মানুষ আছেন, যাদেরকে বাঁকুড়া থেকে হাওড়া যেতে হয়। কিন্তু বাঁকুড়ার লাইনটা যেটা আছে, সেই লাইটা এতটাই জঘন্যতম লাইন হয়ে গেছে, যে বাঁকুড়া-পুরুলিয়ার সকলেই অপেক্ষায় আছে যে এই লাইটা কবে হবে ..।'
আরও পড়ুন, তাপসীর TMC যোগে বিস্ফোরক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়, বললেন, 'জঞ্জাল এবার ভাগাড়ে গেছে..' !
অপর আরও একজন স্থানীয়র প্রতিক্রিয়া, হাইকোর্টের রায় শুনে আমরা খুব খুশি। আমরা সাধারণ মানুষ...আমাদের কলকাতা কমবেশি যাতায়াত করতে হয়। হাইকোর্ট যেটা বলেছে, তিন মাসের মধ্যে কাজটা চালু করতে হবে। তাতে আমরা খুব খুশি। তাহলে সামনের বছরই আমরা ট্রেনে চাপতে পারব। অনেক পিছিয়ে আছি আমরা। প্রচুর নিত্যযাত্রী রয়েছে, যাদের গোঘাট যেতে হয়, আরামবাগ যেতে হয়। কামারপুকুরের লাইন প্রায় হয়ে গিয়েছে। ওই শুধু পুকুরটির জন্য আমরা আটকে আছি। হয়ে গেলে তো আমরা খুব খুশি হব। তাড়াতাড়ি আমরা কলকাতা পৌঁছতে পারব।'