রঞ্জিত সাউ, কলকাতা:  বিধান নগর দক্ষিণ থানার হাতে গ্রেফতার ৪ প্রতারক। এটিএম ড্রপ বক্স থেকে চেক বের করে সই জাল করে rtgs করে নিজেদের নামে জমা দিয়েছিল সেই চার জন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর সল্টলেকের HA ব্লকের বাসিন্দা এক মহিলা সকাল ১০ টা নাগাদ বিধান নগর দক্ষিণ থানা এলাকার একটি চেক নিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সিটিজেন স্কিম করার জন্য। ব্যাঙ্কের এক অফিসার তাঁর কাছ থেকে চেকটি নিয়েছিলেন। বেলা তিনটের সময় একটি মেল আসে, সেখানে লেখা ছিল বেনিফিসিয়ারি অরিন্দম মিত্র, তার কাছে টাকা চলে গেছে। তখন সেই মহিলা ব্যাঙ্কে ফোন করেন। ব্যাঙ্ক থেকে জানানো হয় যে তিনি RTGS করতে দিয়ে গেছেন। এর পর দেখা যায় চেকে ওভার রাইট করে সিনিয়র সিটিজেন থেকে RTGS করা হয়েছে। সই নকল করা হয়েছে। ভাউচার স্লিপে ও সই নকল করে ভুল ফোন নাম্বার দিয়ে টাকা ট্রান্সফার করা হয়।

Continues below advertisement

এর পরেই খবর যায় বিধান নগর দক্ষিণ থানায়। তড়িঘড়ি বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ সেই ব্যাঙ্কে পৌঁছায়। খতিয়ে দেখা হয় সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজ খতিয়ে দেখে ৪ জনকে চিহ্নিত করা হয়। ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, এই চক্র শহরের সব ব্যাঙ্কেই মোটামুটি নজর রাখত। কেউ যদি মোটা অঙ্কের চেক জমা দিতে আসতেন, তাহলে সেই চেক ড্রপ বক্স থেকে কালেক্ট করে সেখানে ওভার রাইট করে সই নকল ও মোবাইল নাম্বার চেঞ্জ করে নিজেদের নামে করে নিত এই চক্রের কাণ্ডারীররা।

পুলিশ সূত্রে খবর কলকাতা পুলিশ এর ব্যাঙ্ক ফ্রড শাখাও এদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। আজ এই চারজনকে বিধান নগর আদালতে তোলা হয়েছিল। সেখানেই অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এই অরিন্দম মিত্র ব্যাঙ্কের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে, সেই সূত্রে ব্যাঙ্কের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল। সেই জ্ঞানক কাজে লাগে এই বড় চক্রের ফাঁদ পেতেছিল সে।

Continues below advertisement