সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : দেবরাজ চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফতার। ধৃত বিধাননগর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া। গতকাল সন্ধে ৬টা নাগাদ এলাকা থেকে প্রথমে তাঁকে আটক করা হয়। এরপর তাঁকে থানায় নিয়ে আসা হয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছিল। তোলাবাজি, হুমকি সহ একাধিক অভিযোগে রয়েছে ধৃত সম্রাট বড়ুয়ার বিরুদ্ধে। শেষ এক সপ্তাহে দু'-তিনটি অভিযোগ এসেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি, তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। শেষ এক সপ্তাহে বিধাননগর পুরনিগমের তিনজন কাউন্সিলর গ্রেফতার হয়েছেন। প্রথমত, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জন পোদ্দার, যিনি সুজিত বসুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

Continues below advertisement

ক্ষমতায় এসে তোলাবাজি-সহ সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরেই পুরোদমে অ্যাকশনে নেমে পড়েছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে বিধাননগর পুরসভার দাপুটে মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননীকে ধরে পুলিশ। তৃণমূল কর্মী অমিত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রোমোটারকে মারধর, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আক্রান্ত প্রোমোটার কিশোর হালদার বলেছেন, "২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ আমাকে রিভলভার দিয়ে এই ননীই (অমিত চক্রবর্তী) মেরেছিল। তারপরে এবার ১০ তারিখে আমার উপরে সমরেশ লোকজন দিয়ে অ্যাটাক করে যুবক সঙ্ঘ ক্লাবের পাশে। ১৫ তারিখে আমি কমপ্লেন করি। ১৫ তারিখে দু'ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেফতার করে। এখনকার প্রশাসনের খুব সুন্দর কাজ।"

এর আগে গত শুক্রবার, প্রোমোটারের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় বিধাননগর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী সহ ২জনকে।

Continues below advertisement

রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই ক়ড়া হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোকাবিলার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, "দেখুন ভয়ের পরিবেশ ছিল। কোনও সিস্টেম ছিল না। শৃঙ্খলা বলে কিছু ছিল না। এবার পদ্ধতি অনুযায়ী সব চলা উচিত।" কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় চলছে ধরপাকড়। দিকে দিকে পুলিশের জালে ধরা পড়ছেন তৃণমূল নেতা-কর্মী থেকে তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর।

এই প্রেক্ষাপটে গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ ও তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। একই আশঙ্কায় ভুগছেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও দেবরাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী অদিতি মুন্সি-ও। আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন দু'জনেই।