ভাস্কর মুখোপাধ্যায়,বীরভূম:  ৯ দিন পরে প্রেমিকার বিয়ে। চোখের সামনেই বহুদিনের কাছের মানুষ হয়ে যাবে অন্য কারও মেনে নিতে পারছিল না প্রেমিক। এর মধ্যে প্রেমিকাকে যেন কোনওভাবে বিরক্ত না করে সে, থানায় ডেকে সতর্ক করেছিল পুলিশও। কিন্তু সেই এক জেদ, 'তুমি আমার না হলে, অন্য কারও নও'। শেষমেষ এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়ে বসল ওই তরুণ। 

তারাপীঠ থানার খামেড্ডা গ্রামের মাল পাড়ার বাসিন্দা বিক্রম মাল। বয়স কুড়ির আশেপাশেই।  তারাপীঠে একটি দোকানে কাজ করত সে। বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ।  তারাপীঠ থানার বাতিনা গ্রামের সুমিতা বাইনের  সঙ্গে গত এক বছর বিশেষ মেলামেশা তার। সুমিতাও সাবালিকা। কিন্তু বাড়ির লোকজন অন্যত্র বিয়ে ঠিক করে তাঁর। বিয়ে ঠিক হওয়ায় বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে মানা করা হয় সুমিতাকে। তাঁর পরিবারের লোক সতর্কও করে বিক্রমকে। কখনও অনুরোধ, কখনও হুমকি...। অভিযোগ, বারবার বারণ করা সত্ত্বেও বিক্রম বারবার সুমিতাকে বিরক্ত করত। এরপর  তারাপীঠ থানায় বিষয়টি জানানো হয়। সেখানে গিয়ে ক্ষমাও চায় সে। কিন্তু হাঠাৎ বৃহস্পতিবার, বিয়ের ঠিক ৯ দিন আগে,  রাতে সুমিতার বাড়ি গিয়ে ধারাল অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে করে সে। 'প্রাক্তন প্রেমিকাকে' এলোপাথাড়ি কোপ মারতে শুরু করে সে। চারিদিকে ছলকে পড়ে রক্ত। আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুমিতা। অভিযোগ, এরপর নিজেকেও শেষ করে দেয় বিক্রম।  স্থানীয় সূত্রে খবর,  সুমিতার পরিবারের লোকজন সুমিতার বিয়ের ঠিক করে মুর্শিদাবাদের তেলসুন্দী গ্রামে।  ৯দিন পরে বিয়ের কথা ছিল তাঁর।  এর মধ্যে বিয়ে ভাঙার নানারকম চেষ্টা করে বিক্রম। ফেসবুকে তার সঙ্গে সুমিতার একাধিক ছবি শেয়ার করে, যা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তি তৈরি হয়।  পাঁচ দিন আগেই সুমিতার পরিবারের তরফে বিক্রমকে সতর্ক করা হয়।  তারাপীঠ থানায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশ  বিক্রমকে সতর্ক করে। 

বৃহস্পতিবার রাতে বিক্রম একটি অস্ত্র নিয়ে সুমিতার বাড়ি যায়। রাত্রি ৮ নাগাদ সুমিতা ভাত খেয়ে হাত ধোওয়ার জন্য বাইরে এলে বিক্রম তাঁকে ধরে পরপর আঘাত করে। সুমিতা আর্তনাদ করলে বিক্রম পালিয়ে যায়। আহত সুমিতাকে রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শেষরক্ষা হয়নি।  এদিকে শুক্রবার সকালে, তারাপীঠের কাছে  সাহাপুরে একটি কাঠমিলের চালাতে বিক্রমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।