ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: বীরভূমের নলহাটিতে কৃষি সমবায় নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে বিজেপি-সিপিএমের মধ্যে আসন সমঝোতার অভিযোগ। নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের শীতলগ্রাম পঞ্চায়েতের কামালপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির ৬টি আসনের জন্য ৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৫টি বিজেপি এবং ২টিতে সিপিএম সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বলে তৃণমূলের দাবি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর এই কৃষি সমবায় সমিতিতে নির্বাচন হচ্ছে। তেইশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াই করে শীতলগ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি-সিপিএম-কংগ্রেস জোট। সমবায় নির্বাচনেও তারা একই কৌশল নিয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছে, তারা দলের কেউ নয় বলে দাবি করেছে সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএমের সঙ্গে জোটের কথা স্বীকার করেননি বিজেপি জেলা সভাপতি।
প্রসঙ্গত, যে পঞ্চায়েতের মধ্যে এই সমবায় নির্বাচন হচ্ছে সেই শীতল গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেস মিলিত ভাবে পরিচালনা করছে। সমিতির মোট আসন সংখ্যা ছয়। সমবায়টি বেড়াশিমূল গ্রামে অবস্থিত। কল্যাণপুর, বেড়াশিমূল, বারুনিঘাটা, কামালপুর, সাহেবনগর ও টিঠিডাঙা গ্রাম নিয়ে এই সমবায় গঠিত। দীর্ঘ ২৫ বছর পর এই সমবায়ের নির্বাচন হচ্ছে। এতদিন সমবায় সমিতির শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে পরিচালন কমিটি গঠন হয়ে এসেছে। আগামী ১৩ এপ্রিল এই সমবায়ের নির্বাচন। তার আগে সোম ও মঙ্গলবার চলে মনোনয়ন পর্ব। সোমবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে ছ'টি আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সিপিএম ও বিজেপি একসঙ্গে এসে সাতটি মনোনয়ন পত্র জমা দেন। এছাড়াও বেড়াশিমূল গ্রামের এক ব্যক্তি নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, বিজেপির পক্ষ থেকে পাঁচটি ও সিপিএমের পক্ষ থেকে দু'টি মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুই দলের প্রার্থীরা একসঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ছ'টি আসনের জন্য সাতটি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়। সিপিএমের বীরভূম জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ জানান, যারা মনোনয়ন জমা দিয়েছে তারা সিপিএমের কেউ নয়।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একসঙ্গে লড়াই করে শীতলগ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি জোট। সমবায় নির্বাচনেও একই কৌশল নিয়েছে তারা। জানা গিয়েছে, সাহেবনগর ও টিঠিডাঙা মুসলিম অধ্যুষিত হওয়ায় ওই দু’টি আসন সিপিএমকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি গ্রামগুলিতে বিজেপির শক্তি বেশি হওয়ায় সেখান থেকে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি।