ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম : সরকার বদলের পরই বিজেপি কর্মীদের থেকে নেওয়া 'জরিমানা' ফেরত দিচ্ছে তৃণমূল ! তোলাবাজি নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়েছে। কোনওভাবে কোনও ক্ষেত্রে তোলাবাজির ঘটনাকে যে রেয়াত করা হবে না এবং দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে যেকোনও অভিযুক্তর বিরুদ্ধে, স্পষ্ট ভাষায় সেই বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আবহের মধ্যেই ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ফেরানোর জন্য তাঁদের থেকে নেওয়া 'জরিমানা'- র টাকা ফেরত দিয়েছে তৃণমূল। জানা গিয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসার প্রভাবেই ঘরছাড়া ছিলেন এই বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের ঘরে ফেরাতে নেওয়া হয়ে মোটা অঙ্কের 'জরিমানা'। সেই টাকাই এবার ফেরত দেওয়া হয়েছে। 

Continues below advertisement

রাজ্যে এসেছে নতুন সরকার, কলেজে কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কবে? বড় ইঙ্গিত দিলেন সজল ঘোষ 

রাজ্যে পালা বদলের পরেই তড়িঘড়ি বিজেপি কর্মীদের থেকে নেওয়া টাকা ফেরালেন কাজল শেখ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি। সূত্রের খবর, ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের থেকে ৫০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা নেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের তরফে। এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের পরবর্তী সন্ত্রাসে ঘরছাড়া হয়েছিলেন এই বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের ঘরে ফেরাতে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের হাসন থেকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী তৃণমূলের কাজল শেখ ঘনিষ্ঠরা। জানা গিয়েছে, টাকা ফেরত পেয়েছেন শান্তিনিকেতন থানা এলাকার বাসিন্দা ১১ জন বিজেপি নেতা-কর্মী। 

Continues below advertisement

এক বিজেপি কর্মী জানিয়েছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হেরে যাওয়ার পর তাঁর বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়, তাঁর দাদাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। শান্তিনিকেতন এলাকায় ভোটের সময় বিজেপির হয়ে কাজ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি। আরও অনেক ছেলেই কাজ করেছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। যাঁরা বিজেপির হয়ে ২০২১- এর ভোটে ওই এলাকায় বিজেপির হয়ে কাজ করেছিলেন তাঁদের বাড়িতে তৃণমূল ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। আজ তাঁরা টাকা ফেরত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মূলত নানুর বিধানসভা এলাকায় কঙ্কালী পঞ্চায়েত এবং সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীরা ঘরছাড়া ছিলেন, কেউ ৬ মাস, কেউ বা একবছর। বাড়ি ফেরার একটাই শর্ত ছিল, যাঁর যেমন ব্যবসা, আর্থিক ক্ষমতা, সেই মতো টাকা দিতে হবে। টাকার পরিমাণ ধার্য হয় ৫০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা। বিজেপির এক কর্মী (জেলার যুবর দায়িত্বে রয়েছেন এখন) আরও মারাত্মক অভিযোগ করেছেন যে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে। ২ জন তৃণমূল নেতার নাম উঠে আসছে এই ঘটনায়। একজন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মামন শেখ এবং আরেকজন ওই এলাকার (যেখানে ঘটনা ঘটেছে), সেই এলাকার দায়িত্বে থাকা আলেখ শেখ।