ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম : টাকা দিলেই তৈরি করে দেওয়া হচ্ছিল আধার কার্ড। গ্রাহক সেজে নলহাটি থানার পুলিশ হানা দিল আধার কেন্দ্রে। ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত ২ জনের থেকে পুলিশ জানার চেষ্টা চালাচ্ছে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির এই চক্রের সঙ্গে আর কে বা কারা যুক্ত রয়েছে। কাদের জন্য এখানে ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করা হতো, বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো আধার তৈরি করে দেওয়া হতো কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ২ জনের থেকে বেশ কিছু ভুয়ো আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের আজ রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
ভুয়ো আধার কার্ড তৈরির খবর আগে থেকেই ছিল পুলিশ কাছে। সেই সূত্রেই বেশ কিছু দিন ধরে এই দুই অভিযুক্তর উপর নজরদারি চালাচ্ছিল নলহাটি থানার পুলিশ। বুধবার দুপুরে নলহাটি থানার পুলিশ বান্দখালা মোড়ে নাসরিন মোবাইল সেন্টারে হানা দেয়। তখনও চলছিল নকল আধার কার্ড বানানোর কাজ। প্রায় ৬ ঘন্টা তল্লাশি চালানোর পর বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে নলহাটি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই দুই ব্যক্তির কাছে কারা ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করাতে আসত, এতদিন এই ২ জন কাদের ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে দিয়েছে, এই গোটা কারবারের সঙ্গে কারা যুক্ত- সব দিকই খতিয়ে দেখছে নলহাটি থানার পুলিশ। যে সমস্ত ভুয়ো আধার কার্ড তল্লাশির সময় বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে সেগুলির নথিপত্রও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অভিযোগ, প্রথম দিকে বাড়িতে বসে বুয়ো আধার কার্ড তৈরির এই কাজ চালিয়ে যেত দুই অভিযুক্ত। কিন্তু মোটা টাকা পেতেই তারা জনবহুল মোড়ে মাইকিং করে কাজ চালাতে থাকে। আধার কার্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং নতুন ভাবে আধার কার্ড তৈরি করার জন্য এক থেকে দেড় হাজার করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই ২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আর ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করতে কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হতো বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। এর পাশাপাশি পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে ধৃত সাব্বির হোসেন বাড়ি বান্দখালা গ্রামে। হাজিকুল মোল্লার বাড়ি বীরভূমের পাইকর থানার বিশোড় গ্রামে।