ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম : অনুব্রত মণ্ডলের ভাইরাল অডিও ক্লিপ ঘিরে যখন রাজ্যজুড়ে তোলপাড়, তখনই তৃণমূলে বড় ভাঙন বীরভূমে। অনুব্রত মণ্ডলের নোংরা হুমকি ফোন ঘিরে অস্বস্তি ক্রমেই বাড়ছে তৃণমূলে।  অনুব্রতর মন্তব্য নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন তৃণমূলেরই অনেকে। দলের তরফে তড়িঘড়ি দায় ঝেড়ে, কেষ্টকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাফ চাইলেও এখনও পুলিশের তলবে হাজির হননি অনুব্রত। এই পরিস্থিতিতেই বীরভূমে ঘাসফুল শিবির ছাড়লেন দেড়শরও বেশি পরিবার।   

বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভার কুনুরি গ্রাম সহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছে ১৫০টি পরিবার।  বিজেপির দাবি, মঙ্গলবার সিউড়িতে বিজেপির বীরভূম জেলা কার্যালয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার হাত ধরে তারা বিজেপিতে যোগদান করে।  বিজেপি দাবি, তৃণমূলের দলীয় নেতৃত্বের অভাব ও সংখ্যালঘু তোষনের জন্য পুরনো দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছে এই পরিবারগুলি। 

গত মাসেই বহু পরিবার ঘাসফুল থেকে পদ্মশিবিরে নাম লেখায়। অনুব্রত মণ্ডলকে জেলা সভাপতি পদ থেকে সরানোর পরই, পরপর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক বেড়ে যায় । মে মাসের শেষাশেষি নলহাটি বিধানসভার ৫৫টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দান করে। তাঁদের হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন বীরভূম সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি ধ্রুব সাহা।  বিজেপির দাবি ছিল, ৩ দিনে হাসন এবং নলহাটি বিধানসভার মোট ২৫০টি পরিবার চলে এসেছে তাদের দিকে। 

সম্প্রতি বীরভূমে তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। জেলা সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। কোর কমিটির ওপরই আস্থা রেখেছে দল। এই আবহে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার ঢল শুরু হয়েছে বলে মনে করছে বিজেপি।  ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে এটা কি তৃণমূলের কাছে অশনি-সঙ্কেত? এইরকম ভাবে দলবদল চলতে থাকলে  উদ্বেগ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।  

এদিকে, অনুব্রত মণ্ডলের ফোন-কাণ্ড নিয়ে উত্তপ্ত লালমাটির জেলা।  হুমকিকাণ্ডে ৫ দিন পার হয়ে গেলেও অনুব্রত মণ্ডল পুলিশের মুখোমুখি হননি। খাড়া করেছেন অসুস্থতার তত্ত্ব। একাধিক নোটিস জারি হলেও থানায় হাজিরা দেননি কেষ্ট। এখনও হাত গুটিয়ে কেন পুলিশ, উঠছে প্রশ্ন ।  বিরোধীদের  প্রশ্ন, হুমকি দেওয়ার অভিযোগে TMCP নেতাকে সাসপেন্ড করলেও স্রেফ ক্ষমা চাইতেই কি  অনুব্রতকে মাফ করে দিন দল?