বীরভূম : বেপাত্তা টুলু মণ্ডল। এবার তাঁর শ্যালকের গাড়িতে মিলল বিদেশি মুদ্রা। বোলপুর থেকে ইলামবাজার যাওয়ার রাস্তায় টুলু মণ্ডলের শ্যালকের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিদেশি মুদ্রা। মহিদাপুর গ্রামের কাছে পুলিশের নাকা চেকিং চলছিল। সেই নাকা চেকিংয়ের সময় বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের শ্যালকের গাড়িতে পাওয়া গিয়েছে বিদেশি মুদ্রা। এর আগে টুলু মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। এমনকী টুলু মণ্ডলের শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। নাকা চেকিংয়ের সময় টুলু মণ্ডলের শ্যালকের গাড়ি থেকে বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হওয়ার পর টুলু মণ্ডলের শ্যালককে আটক করেছে পুলিশ। 

Continues below advertisement

এখনও অধরা পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল। তবে পুলিশ যেভাবে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দাবি করলেন তৃণমূল সরকারের তুলনায় পাথর খাদান থেকে রাজস্ব আসছে অনেক বেশি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'রাজস্ব অনেক বাড়িয়েছেন। একটা বড় ক্র্যাকডাউন হয়েছে এখানে, ২২০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে।' এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল। তিনি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে পালিয়েছেন, তা নিয়েও জোর জল্পনা চলছে। তবে, ইতিমধ্যেই তাঁর বিপুল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে পুলিশ। টাকা ও সোনা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। 

ক্যামাক স্ট্রিটকাণ্ডে ডেরেক ও'ব্রায়েন-কে ফের নোটিস, বুধবার তলব 

Continues below advertisement

পুলিশের স্ক্য়ানারে রয়েছে, টুলু মণ্ডলের আলিশান বাড়ি। একের পর এক সম্পত্তি, ফার্ম হাউস, সুবিশাল পার্কিং লট, ২৪৩টা গাড়ি। এই প্রেক্ষাপটে, গত শনিবার বীরভূমে গিয়ে পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'পুলিশের আরও শক্তি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। রাজস্ব অনেক বাড়িয়েছেন। একটা বড় ক্র্যাকডাউন হয়েছে এখানে, ২২০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একজনের কাছ থেকে। ২৫২ খানা গাড়ি সিজ হয়েছে। এটা রাজ্য পুলিশ চাইলে পারে, জেলা পুলিশ চাইলে পারে। এর জন্য ED-CBI লাগে না, CID-STF লাগে না। এটা বীরভূম জেলা পুলিশ প্রমাণ করেছে।' 

বীরভূমের মহম্মদবাজার, রামপুরহাট থেকে নলহাটি এলাকায় রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য খাদান ও ক্রাশার। খাদান থেকে পাথরের নিয়ে যাওয়া হয় ক্রাশার ইউনিটে। সেখানে বড় বড় পাথর ভেঙে তৈরি হয় বিভিন্ন মাপের স্টোন চিপস। স্টোন চিপস ক্রাশার থেকে লরি ভর্তি হয়ে DCR গেট হয়ে চলে যায় বাজারে। পুলিশ সূত্রে খবর, টুলু মণ্ডলের আসল খেলা শুরু হত এই DCR গেটে। সরকারকে ফাঁকি দিতে ডুপ্লিকেট DCR ছাপাতেন টুলু। সেখানে লরির সংখ্যা ও পাথরের ওজন কম করে দেখানো হত। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে খবর, ডুপ্লিকেট DCR-এ লরির সংখ্যা ও পাথরের ওজন কম করে দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করতেন টুলু।