ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: কোপাই নদীর জল বাড়তেই ডুবে গেল কঙ্কালিতলা মন্দির চত্বর। মা কঙ্কালির গর্ভগৃহে জল না ঢুকলেও মন্দির চত্বরে রয়েছে কোমর সমান জল। তাই পুজো হচ্ছে পাশের শিব মন্দিরে। এদিকে বুধবার থেকে বোলপুর পুরসভার ৩, ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ড এখনও জলমগ্ন। একাধিক জায়গায় নতুন করে আবার জল ঢুকেছে। ফলে জলযন্ত্রণায় জীবন জেরবার সেখানকার মানুষের।
রাজ্যে টানা বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জায়গায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। রাস্তায় জল জমে গিয়েছে তো কোথায় বাড়িতেও গ্রামে গ্রামে জল ঢুকে গিয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে ঘাটালে। সেখানে প্লাবন শঙ্কা দেখা গিয়েছে। যার জেরে সমস্যায় স্থানীয়রা। জলাধার থেকে ছাড়া জলে জল বেড়েছে শিলাবতী নদীতে। নদীর জলে ভেসেছে ঘাটাল শহর। ডুবেছে রাজ্য সড়ক, জলে ডুবেছে রাস্তাঘাট চাষের জমি। কোথাও জল পেরিয়ে চলছে ডিঙি নৌকো। ঘাটাল পুরসভার দশটি ওয়ার্ডে জল ঢুকেছে। বহু দোকান ডুবেছে, আরও বৃষ্টি হলে বাড়বে দুর্ভোগ, আশঙ্কা স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে একাধিক জেলায়। রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টি কম থাকবে দক্ষিণবঙ্গে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে দাবি, এরপর ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। অন্য়দিকে, সপ্তাহজুড়ে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এদিন সকাল থেকে মাইথন ও পাঞ্চেত মিলিয়ে মোট জল ছাড়া হয়েছে ১ লক্ষ ১৮ হাজার কিউসেক। এই জল দুর্গাপুর ব্য়ারেজে এসে পোঁছনো পর। সেখান থেকে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫২৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাঁকুড়ার ২ নম্বর ব্লকের দ্বারকেশ্বর নদের উপর থাকা ভাদুল সেতু জলের তলায়, এই খবরটি এবিপি আনন্দে প্রকাশিত হয়েছিল। টানা বৃষ্টির জেরে সেতুর উপর থেকে বইছে জল। বাঁকুড়া থেকে ওন্দা যেতে গেলে এই সেতু ছিল অন্য়তম মাধ্য়ম। সেই সেতু জলের তলায় চলে যাওয়ায় সমস্য়ায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দা। প্রবল বৃষ্টিতে বোলপুর পুরসভার ৪টি ওয়ার্ড জলের তলায়। প্রায় হাজারের বেশি মানুষ গৃহবন্দি। একাধিক বাড়িতে ঢুকে গেছে জল। ড্রেনের জল উঠে এসেছে রাস্তায় এবং ঘরে। তার মধ্য়েই বসবাস করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
রাজ্যে টানা বৃষ্টিতে জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা বেড়েছে। তবে আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ধীরে ধীরে বৃষ্টি কমবে এবার।
