পার্থপ্রতিম ঘোষ, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম:তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫। শেষ অবধি পাওয়া খবরে, বিধ্বংসী আগুনে শেষ অন্তত ৫ পুণ্যার্থীর প্রাণ। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও অনেকেই তাঁদের পরিজনেদের খুঁজে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, তারাপীঠে বিধ্বংসী আগুন, শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার উপলক্ষে এসেছিলেন প্রচুর পুণ্যার্থী, ভোররাতে ঘুমের মাঝেই মর্মান্তিক ঘটনা, মৃত একাধিক

Continues below advertisement

আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য দুটি সিড়ি, দুটি গেট ছিল ঠিকই, কিন্তু দুটোই ছিল তালাবন্ধ

জানা গিয়েছে, হোটেলে রয়েছে দুটি বাহির পথ। উপরতলা থেকে নানা ভাবে নামার চেষ্টা করেন পুণ্যার্থী। হোটেলের পিছন দিকে ছিল বাঁশের সিড়ি। সেটা অন্তত দোতালা অবধি পৌঁছেছে, তার উপর ভর করেও অনেকে নামার চেষ্টা করেছে। কিন্তু যখন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তখন একটি বাহির পথ ঠিক মতো ব্যবহার করা যায়নি। তবে পরে যখন দমকল বাহিনী এবং পুলিশ এসে পৌঁছয়, তখন ওই দ্বিতীয় গেটটি ব্যবহার করা হয়। হোটেলের পিছন দিকে বাইরের দিক বরাবর সিড়ি ছিল। কিন্তু হোটেলের প্রতিটি তলায় পিছন দিকের দরজাগুলি তালা বন্ধ অবস্থায় ছিল। যার ফলে একটাই বাহির পথ পড়ে থাকে। কালো জমাট বাধা ধোঁয়া তখন তারাপীঠের হোটেলের ৩ তলায় পৌঁছে গিয়েছে, ভয়ে তখন নীচ তলায় নামে পুণ্য়ার্থীরা, এদিকে আগুনের উৎস হোটেলের রিসেপশনের নীচ তলাতেই।

প্রশ্ন: পিছন দিকের গেটে আপনারা যখন এসে দেখছেন, বেরোতে পারছিল না কেউ ? 

পুণ্যার্থী : আগুন লাগার পরে প্রথমে হোটেলের ভিতরটা আগুনে ছেয়ে গিয়েছিল। ব্যালকনিটা থাকার জন্য, প্রথমে সেভ হয়েছি। আমাদের রুমে ৭ জন ছিলাম। ব্যালকনি দিয়ে ৭ জন নেমেছি। তিনজন নামতে পারছিল না। পরবর্তীতে দমকলের লোক এসে পিছনের গেট ভেঙে, বাকি তিনজনকে বার করেছে। 

প্রশ্ন:  পিছন দিকে যখন সবাই বের হবার চেষ্টা করছিল, ওখানে কি বের হবার জায়গা ছিল না ?

পুণ্যার্থী :  হ্যাঁ, কারণ ওখানে দুটো তালা দেওয়া ছিল, তাই বের হবার কোনও জায়গাই ছিল না। 

আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য দুটি সিড়ি, দুটি গেট ছিল ঠিকই, কিন্তু বিপদে প্রথমে সেই দ্বিতীয় সিড়ি বা দ্বিতীয় গেট কোনওটাই ব্যবহার করা যায়নি। কারণ তালা বন্ধ ছিল। দমকল বাহিনী পৌঁছনর পর তালা ভাঙতেই অবশেষে উদ্ধারকার্য সম্ভব হয়।