কলকাতা: ব্রিগ্রেডে লক্ষ কন্ঠে গীতা পাঠের দিন 'আমিষ খাবার বিক্রি' করায় বিক্রেতাকে মারের ঘটনায় তোলপাড় পড়েছিল রাজ্যে। ঘটনায় ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল সিপিএম। এবার ব্রিগেডে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মার নিয়ে উল্টো সুরে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়!
চিকেন প্যাটিস বিক্রি করায় মার, বিজেপির উল্টো সুরে প্রতিবাদে সাংসদ । 'খুব খারাপ কাজ হয়েছে, খেটে খাওয়া মানুষকে মারতে হবে? খেটে খাওয়া মানুষকে মেরে ধরে চলে যেতে বলতে হবে? অন্য ভাবেও বলা যেতে পারত', বিস্ফোরক তমলুকের বিজেপি সাংসদ।
'কাউকে মারা হচ্ছে, তার পুঁজিও নষ্ট করা হয়েছে, এটা ঠিক নয়। দেশে অনেক ব্যবসায়ী শোষণ করছে, পারলে তাদের মারুক', চিকেন প্যাটিস বিক্রি করায় ব্রিগেডে মার নিয়ে বিস্ফোরক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। 'যে বিক্রি করছে, 'হিন্দু না মুসলিম এই পরিচয়ের চেয়েও বড় পরিচয় সে দরিদ্র না শিল্পপতি? পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি তো অন্য রাজ্যের মতো নয়', বিজেপি নেতাদের উল্টো সুরে হেঁটে মন্তব্য অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের।
'দরিদ্র মানুষকে এভাবে হেনস্থা করা অত্যন্ত অন্যায়। যারা করেছে, তারাই দুষ্কৃতী, তাদেরই বিনাশ চাই। যারা হামলা চালিয়েছে, তারা কেউ বিজেপির নয়। হিন্দু সেজে এসেছিল, এরা আসলে কে, তা বের করা দরকার', গরীবের উপর অত্যাচার মেনে নেওয়া যাবে না, এমনটাই মন্তব্য অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের।
সম্প্রতি, তৃণমূলকে কি হারাতে চায় বিজেপি? এবার এই প্রশ্ন তুলে দলের অস্বস্তি বাড়ালেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তিনি বিজেপির হয়ে ভোটের ময়দানে নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর লক্ষ্যে। তবে তিনি কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির দিকে আঙুল তুলে দাবি করেছেন, তিনি তাঁর লক্ষ্যের ধারের কাছে নেই। এরই সঙ্গে তিনি রাজ্যে ৩৫৫ ধারা জারির পক্ষে সওয়াল করেন। তোপ দাগেন কেন্দ্রের মোদী সরকারকেও। তিনি বলেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি বদল করতে চায় না।' এদিকে দলের সাংসদের এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'যথাযোগ্য জায়গায় ওঁর মতগুলি বললে তা নিয়ে আলোচনা হবে। এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, তৃণমূলকে এই রাজ্য থেকে সরানো।'