রঞ্জিত সাউ, কলকাতা: গতকালই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সিকিমে ধসে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে উত্তরবঙ্গে দেখা করতে গিয়ে 'মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা'-র ঘোষণা করেন। উত্তরবঙ্গে সাংবাদিকদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী যাঁরা 'আয়ুষ্মান ভারত' প্রকল্পের আওতায় আসছেন না, তাদের জন্য এই বিমার ঘোষণা করেছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।

Continues below advertisement

দিলীপের দাবি আগে স্বাস্থসাথী কার্ডে কাজ হত না, তবে এবার কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার দুই তরফেই বিমার মাধ্যমে সকলের সাহায্য করা হবে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'ভেবেচিন্তেই করছে সরকার। অনেকেই হয়তো আওতায় আসেনি, বা নাম আসেনি। আগে তো স্বাস্থ্য সাথী ছিলই। কিন্তু কার্ডটাই ছিল, কাজ হতো না। অনেক হাসপাতালে গেলেই বলতো বিল বাকি আমরা নেব না। আমরা আগেও বলেছি দুটোই দিক। কেন্দ্রীয় সরকার দিচ্ছে আমরা নেব না কেন? প্রকল্পের সুবিধা আমরা নেব সেটা নিয়েছি। বাকি যারা থাকবে রাজ্য সরকার তাদের দেখবে।'

গতকাল মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন আয়ুষ্মান ভারতের মতোই এই বিমা পরিষেবাতেও পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্যাশলেশ চিকিৎসা সাধারণ জনগণ পাবেন এবং গোটা ভারতবর্ষে যে যে সরকারি ও বেসরকারি হাসাপাতালগুলিতে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড গ্রহণ করা হয়, সেখানে গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি যতক্ষণ না এই বিমা পরিষেবার পোর্টালে নাম তোলার কাজ চলছে, ততক্ষণ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড চালু থাকবে বলেও জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন:- গতকাল সুদীপ-শুভেন্দু বৈঠক, আজই কি বিজেপির সঙ্গে মিশে যাবে এনসিপিআই? 

তাঁকে বলতে শোনা যায়, ' যারা আয়ুষ্মানের আওতায় আসছে না তারা রাজ্যের সরকারের নিজস্ব স্কিমের সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার সুযোগ পাবেন। গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে যেখানে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়া যায় সেখানে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় ৫ লক্ষ টাকা পাওয়া যাবে। আয়ুষ্মান যোজনার পোর্টালে নাম তোলার কাজ চলছে। স্বাস্থ্য সাথীর ডেটাকেই একত্র করার কাজ চলছে। যতক্ষণ কাজ চলছে ততক্ষণ স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হবে না। আয়ুষ্মান কার্ড হয়ে গেলে তখন স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ হবে। কারও অসুবিধা হবে না।' 

তবে বার্ষিক পারিবারিক আয় আট লক্ষ টাকা বা তার বেশি হলে এবং অন্য কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প কিংবা ইএসআই-র আওতায় থাকা কর্মী বা পেনশনভোগী এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। বয়স ৭০-র বেশি হলে তাঁরা আয়ুষ্মান ভারতেরই সুবিধা পাবেন।