ঊজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়. কৃষ্ণেন্দু অধিকারী ও শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা : দলেই প্রবল বিদ্রোহ। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল তৃণমূল। নতুন বিরোধী দলনেতা হলেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আরেক বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা হলেন ডেপুটি লিডার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নবান্নে মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। 

Continues below advertisement

চুরমার হয়ে গেল তৃণমূল। ভোটের ফল বেরোনোর এক মাসের মধ্য়ে ভেঙে খান খান। নিজের দলেই 'ঘরছাড়া' হয়ে গেলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তাঁর হাতে আর কিছুই রইল না। অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের হাতেও কিছু রইল না। নতুন বিরোধী দলনেতা হলেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বললেনও, "অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে রয়েছি।"

মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের তৃণমূলের মধ্য়েই নতুন তৃণমূল করলেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়রা। সংখ্য়ার নিরিখে বলাই যায় তারাই এখন আসল তৃণমূল। প্রতীকী পদে রয়ে গেলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। কিন্তু কার্যত ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার! একদা ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কালীঘাটে এখন শুধুই শূন্য়তা। পিসি আছেন, ভাইপো আছেন, নেই শুধু ক্ষমতা। সেসব এখন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, সন্দীপন সাহাদের হাতে। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বক্তব্য, "কেউ নেতা কেউ ভৃত্য় এটা নয়। এটা গোটাটা একটা টিম।" 

Continues below advertisement

কিছুদিন আগে কালীঘাটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ঠিক করেছিলেন বিরোধী দলনেতা হবেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মুখ্য সচেতক ফিরহাদ হাকিম এবং, ডেপুটি লিডার হিসাবে অসীমা পাত্র ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঠিক হয়। সেই তালিকাকে চ্য়ালেঞ্জ করে, বুধবার বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে নতুন তালিকা জমা দিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা। স্পিকার তা গ্রহণ করলেন। যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল, সেই তিনিই হলেন বিরোধী দলনেতা। পরে তিনি বললেন, "আমরা মাননীয়া মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে আমাদের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে থাকবার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা নিশ্চিতভাবে তাঁর পরামর্শ পেলে আমরা গঠনমূলক এবং সদর্থক বিরোধীর ভূমিকা ভালভাবে পালন করতে পারব এ নিয়ে কোনও সংশয় নেই।"

যিনি ছিলেন তৃণমূলের ১ নম্বর সর্বেসর্বা, তিনিই আজ নিছকই পরামর্শদাতা। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, "তৃণমূলের যে জমি ছিল, সেই জমিতে একেবারে ফাটল ধরে গিয়েছিল। দলের মধ্যে রীতিনীতি বলে কিছু ছিল না। তাইজন্যই আজ তৃণমূলের এই অবস্থা হয়েছে। তৃণমূল দলটার আর কিছু নেই। আমার তো মনে হয়, আগামীদিনে এই বাংলায় বিরোধী বলে আর কেউ থাকবে না। বিরোধী একদম ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।"

বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, আছে, থাকবে। যারা জিতেছেন, তাঁরা কেউ নির্দল প্রার্থী নন। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতীক নিয়ে জিতেছেন। কোনও বহিষ্কৃত বিধায়ক সেই দলের দলনেতা হতে পারেন না।"

বিধানসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক হলেন রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান। আরেক বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা হলেন ডেপুটি লিডার। এছাড়াও ডেপুটি লিডার হলেন- জাভেদ খান, শিউলি সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিন। 

আর বুধবারই অত্য়ন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে নবান্নে মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। ছিলেন মমতাপন্থী বিধায়করাও। আবার বিধানসভায় সংখ্যার নিরিখে আসল তৃণমূলরাও। উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিমও।