কলকাতা : বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর সদ্য প্রাক্তন আপ্ত সহায়ককে গ্রেফতার করা হল। এই মর্মে জানিয়েছেন বিধায়ক নিজেই। লক্ষ লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি জগদ্দলের বাসিন্দা সায়ন্তন সান্যাল। সোমবার বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। যদিও তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে এবং তিনি নির্দোষ বলে দাবি করেছেন সায়ন্তন। অন্যদিকে বিধায়ক দাবি করেছেন, বিশ্বাস করে কাজে নিয়েছিলাম, বিশ্বাসঘাতকতা করবে ভাবিনি।

Continues below advertisement

পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করা হয় এবিপি আনন্দর প্রতিনিধির তরফে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনার বিরুদ্ধে চাকরির নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে। উত্তরে অভিযুক্ত বলেন, 'ওটা সবটাই মিথ্যা কথা। পুলিশ দেখছে।'

এবিপি আনন্দ : ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

Continues below advertisement

অভিযুক্ত : 'পুরোটাই মিথ্যা কথা। কারো কাছে কিছু নিইনি।'

এবিপি আনন্দ : মানে কি মিথ্যা মামলা ?

অভিযুক্ত : 'হ্যাঁ, পুরোটাই মিথ্যা মামলা। যে করেছে সে টিএমসি করত। টিএমসির আমলে মামলা করেছে।'

এবিপি আনন্দ : কে ? তার নাম কী ?

অভিযুক্ত : 'বিশ্বরূপ সাহা।'

এবিপি আনন্দ : কেন এরকম আচমকা মামলা ?

অভিযুক্ত : 'আসলে চিটিংবাজ ছিল।'

এদিকে পাপিয়া অধিকারী বলছেন, "দেখুন ঘটনাটা হচ্ছে... নানারকম শুনে আমি আমার আপ্ত সহায়ককে বহিষ্কার করেছি। তাঁর ২০২৪ সালের কেস। তিনি নানারকম চিটিং...কখনো ৫৭ লক্ষ টাকা, কখনো এআই জেনারেট করে ফেক টেন্ডার...সেখান থেকে টাকা নিয়েছেন। এরকম নানা কাজ করেছেন। যখন ওঁকে জিজ্ঞাসা করেছি...উনি আমার হোয়াটসঅ্যাপটার অ্যাকসেস নিয়ে নিয়েছিলেন। আমাকে বলছেন, আপনার তো হোয়াটসঅ্য়াপ দেখার সময় হয় না, হোয়াটসঅ্যাপ দেখে দেখে আমি বলব। কী হল...আমার রাজ্য, জাতীয়, আন্তর্জাতিক যত রকম গ্রুপ, সব থেকে আমি বেরিয়ে গেলাম। উনি সেগুলো নিজের কাছে নিয়ে...। আমি না ভাল বুঝতে পারিনি। পাশের লোকটা যদি এরকম বেইমানি করে...তা আমি কী বুঝব ? কতটা আমার ইমেজকে উনি শ্যাটার করেছেন।"

প্রসঙ্গত, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে দুরমুশ করে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তারা। অন্যতম হেভিওয়েট কেন্দ্র টালিগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ভোটে তৃণমূল প্রার্থী ও প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তারপর থেকে টালিগঞ্জের সটুডিও পাড়াতেও চোখে পড়েছে পরিবর্তনের ছবি, এমনই দাবি বিভিন্ন মহলের।