কলকাতা: নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে প্রকাশ্যে কুরুচিকর মন্তব্য। সোশ্যাল মিডিয়াতেও অপমানজনক পোস্ট। বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেই। সেই আবহেই নেতাজী অবমাননায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশও দিয়েছেন। সেই নিয়ে এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন অনন্ত মহারাজ ওরফে নগেন্দ্র রায়। বরং বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন তিনি। (Anant Maharaj on Netaji Remarks)

Continues below advertisement

বৃহস্পতিবার নবান্নের সভাঘর থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। নেতাজীকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করতে হবে, প্রয়োজনে গ্রেফতার করতে হবে বলে নির্দেশ দেন তিনি। দল-মতের নিরিখে কেউ ছাড় পাবেন না, আইন সকলের জন্য সমান বলেও জানান। সেই নিয়ে যোগাযোগ করা হলে এবিপি আনন্দে অনন্ত মহারাজ বলেন, "আমি বুঝতে পারছি না, উনি কোন ইস্যুতে একথা বলছেন। আমার তো নাম নেননি। কিন্তু বলেছেন সাংসদের কথা। সাংসদ তো শমীক ভট্টাচার্যও। তা আমাকে কি অ্যারেস্ট করবে?" (BJP News)

আরও পড়ুন: নেতাজীকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য়, গ্রেফতার ১, সরানো হল ১০৮টি পোস্ট

Continues below advertisement

নেতাজীকে সম্প্রতি 'দেশদ্রোহী' বলেও উল্লেখ করেন অনন্ত মহারাজ। তাহলে কি আগের অবস্থানেই অনড় তিনি? তাঁর বক্তব্য, "আমি কেন একমত থাকব! কাগজ বলছে! আমি যা বলেছি, ভারত সরকাররে আর্কাইভ বিভাগে বইটি আছে।" কিন্তু নেতাজীকে 'দেশদ্রোহী' বললেন কেন? অনন্ত মহারাজের কথায়, "আরে ভাই, আমি বলি নাই, কাগজ বলছে। যুদ্ধাপরাধী বলছে। তখনকার ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিল জওহরলাল নেহরু। কথাগুলি তো কংগ্রেসের! আমাদের তো বিজেপি সরকার! সত্য না মিথ্যা, তা কংগ্রেস বলবে।"

সংসদের বাইরে এদিন বেশ কিছু কাগজ সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরেন অনন্ত। বলেন, "আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ভাল কথা বলেছেন। আইন সবার জন্য প্রযোজ্য। আমি আইন প্রণয়েতা। অস্বীকার করব কী করে? আমি আবার বলছি, প্রমাণ নিয়ে কথা বলছি। তথ্য বলা যদি অপরাধ হয়ে থাকে...এটা দেখুন। খসড়া রিপোর্টে বলা হয়েছে যুদ্ধাপরাধী। আমি তো বলিনি! সত্য-মিথ্যা সরকারকে বলতে হবে। এটা কি আমার বলা অপরাধ? মিথ্যে হয়ে থাকলে ঘুরছে কী করে? সরকারের দেখা উচিত। জওহরলাল নেহরু একথাটা বলেছেন! আমি মিথ্যে কোথায় বললাম?"

নেতাজীকে নিয়ে লাগাতার যে মন্তব্য করে আসছিলেন, তা নিয়ে সরব হয় বিরোধীরা। গতকাল সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে শুভেন্দু জানান, আইন সকলের জন্য সমান। পুলিশ আইনানুগ পদক্ষেপ করবে। তাতে প্রশাসন বা রাজনৈতিক দলগুলি হস্তক্ষেপ করবে না। নেতাজীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যে ক্ষমা চাইতেও বলেন শুভেন্দু। পোস্ট সরানোর নির্দেশ দেন। তবে তা করলেই যে রেহাই মিলবে না, তাও বুঝিয়ে দেন তিনি। তার পরই মুখ খুললেন অনন্ত মহারাজ।

আরও পড়ুন: নেতাজীকে অপমান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচির পোস্ট করলে মিলবে না ছাড়, করা হতে পারে গ্রেফতার, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

তবে এখনও পর্যন্ত ক্ষমা চাননি তিনি। বরং শমীকের নাম তুলে ধরেছেন। ঘটনাচক্রে, কয়েক দিন আগে শমীকের একটি মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক বাঁধে, যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "মহম্মদ আলি পার্কে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বক্তৃতা করছিলেন। ফরওয়ার্ড ব্লকের গুন্ডারা মাথায় পাথর মেরে তাঁকে রক্তাক্ত করে দিয়েছিলেন। শ্যামাপ্রসাদের যে জনপ্রিয়তা ছিল, তিনি মঞ্চ থেকে একটু উত্তেজক বিবৃতি দিলে ফরওয়ার্ড ব্লকের কেউ জীবিত থাকত না। কলকাতা পুরসভার অন্দরে শ্যামাপ্রসাদকে কে নিগ্রহ করেছিলেন, তাঁর নাম বললে আজ নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হবে।" সেই নিয়েও বিতর্ক বাধে। অনন্ত সেদিকেই ইঙ্গিত করলেন কি না, উঠছে প্রশ্ন।