কলকাতা: বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তার মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এখনও পর্যন্ত দফতর ঘোষণা না করা হলেও তাঁকে খুব সম্ভবত উপ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। খড়গপুর সদর থেকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এরপর থেকেই তিনি যে মন্ত্রক পাচ্ছেন, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন সবাই। এদিন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরই দিলীপ ঘোষ বলেন, 'যাঁরা এই সরকারকে বানিয়েছে, এই উচ্ছ্বাস তাঁদেরই। আমি কল্পনা করেছিলাম যে এমন একটা সরকার আসবে। এসে গিয়েছে, এটা সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ। রাজ্য সভাপতি হিসেবে ৭৭ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলাম দলকে। এখন সরকারে আমরা। ভগবানের আশীর্বাদ, সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ। এখনও কিছু পরিকল্পনা করিনি। ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করব।'

Continues below advertisement

এদিকে, ছেলের সাফল্যে খুশি দিলীপ ঘোষের মা। ছেলের শপথ অনুষ্ঠান টিভিতেই দেখেছেন। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, 'আমি টিভিতে দেখেছি। ফোনে সকালে কথা হয়েছিল। আমাকে বলেছিল যে শপথ নিতে যাচ্ছে। রাজ্যবাসী যা চাইবে, আমিও তাই চাইব। ছেলে কাজ করবে, এই বিষয়ে আমি আশাবাদী। সবাই ডানপিটে ছেলে বললেও, আমি মনে করি আমার ছেলে ডানপিটে নয়। কারও কখনও খারাপ চায়নি। কারও পেছনে কখনও লাগেনি। ও অন্যরকম ছেলে। ভাবতাম যে ছেলে একদিন মন্ত্রী হবে। আজ সেই দিন। ও মন্ত্রী হয়ে গেল।'

Continues below advertisement

এদিকে, এদিন শপথ গ্রহণের পরই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্য়ায়ের বাড়ি যান বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনিআর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে, এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, তিনি নির্বাচনে লড়াইয়ের সময়েই জানতেন, জয় আসবে। এই প্রথমবার ভারতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। আর ভবানীপুর থেকে তিনিই জয়ী হচ্ছেন। এই ইঙ্গিত নাকি শুভেন্দুকে দিয়েছিলেন, স্বয়ং মা কালী! শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি নির্বাচনে লড়ার সময়ে, কালীঘাটের মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে, তিনি যখন মা কালীর গর্ভগৃহে ঢুুকে প্রণাম করছেন, সেই সময়েই মা কালীর পা থেকে একটি পদ্মফুল এসে পড়ে শুভেন্দুর হাতে। সদ্য শপথ নেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বাস, সেইদিনই মা কালী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বাংলায় এবার পদ্ম ফুটবে। সেই বিশ্বাসে ভর করেই, শুভেন্দু অধিকারী লড়াই করেছেন নির্বাচনে। জয়লাভ ও করেছেন।