সৌমিত্র রায় ও আশাবুল হোসেন, কলকাতা : হেভিওয়েট ৩ তৃণমূল-ত্যাগীর জন্য দরজা তো খুলল বিজেপি। বাকিদের ক্ষেত্রে কী হবে? সামনেই পুরভোট। এবার কি তৃণমূলের বিদায়ী চেয়ারম্যান-কাউন্সিলরদের জন্য়ও দরজা খুলবে পদ্মশিবির? তা নিয়েই এখন চলছে জল্পনা-গুঞ্জন-চর্চা।
"মনে রাখবেন, গাছের যত উঁচুতে গিয়েই বসুক না কেন, কাককে কোনও দিন পায়রার মতো দেখতে লাগবে না। তৃণমূল এক, তৃণমূলে ভাল, তৃণমূলে খারাপ - এ কী করে আমি বলতে পারি ? তৃণমূল তো তৃণমূলই।" এক সময় এটাই ছিল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের অবস্থান। কিন্তু বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সদ্য় প্রাক্তন তিন সাংসদকে দলে নিয়েই, রাজ্য়সভার প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। এখন প্রশ্ন হল, ওপরের দিকে হেভিওয়েট ৩ তৃণমূল-ত্যাগীর জন্য় দরজা তো খুলল বিজেপি, নিচুতলার ক্ষেত্রে কী হবে ?
সামনেই পুরভোট। এবার কি তৃণমূলের বিদায়ী চেয়ারম্যান-কাউন্সিলরদের জন্য়ও দরজা খুলবে পদ্মশিবির ? তৃণমূল ক্ষমতা হারানোর পরই... কলকাতা, বিধাননগর, শিলিগুড়ি, আসানসোল- সহ একাধিক কর্পোরেশনের বোর্ড ভেঙে গেছে। জেলায় জেলায় প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও পুরসভা ভাঙছে। দলে দলে কাউন্সিলরা তৃণমূল ছাড়ছেন। সবুজ সঙ্কেত পেলেই বিজেপিতে যাওয়ার জন্য় এক পায়ে তৈরি। এরইমধ্য়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্রুত পুরভোট হবে। তিনি বলেছেন, "আগামী ৬ মাস অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত কর্পোরেশনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াই আমাদের কাজ, আমাদের লক্ষ্য।"
গত ১৫ জুন, মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার পর, যেদিন প্রথম কলকাতা পুরসভায় পা রাখেন শুভেন্দু অধিকারী, সেদিন তাঁকে পেয়ে কার্যত আপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলররা। হাসিমুখে শুভেন্দু অধিকারীকে অভিবাদন জানাতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রাতৃবধূ ও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কর্পোরেশন, পুরসভাগুলিতে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হলে কি নিচুতলাতেও দরজা খুলে দেবে বিজেপি ?
এ প্রসঙ্গে রাজ্য় বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "রাজনীতি সতত প্রবহমান। সতত পরিবর্তনশীল। সুতরাং যখন যেরকম হবে সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে। আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।"
অন্যদিকে, বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "ওদের সঙ্গে উপযুক্ত বা যোগ্য লোক নিশ্চয়ই নেই। নাহলে তিনজন তৃণমূল থেকে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে এক ঘণ্টার মধ্যে কী করে তাঁদের নমিনেশন ঘোষণা হতে পারে।"
২ দিন আগে, কামারহাটি পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়। নতুন চেয়ারম্যান করা হয় নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়কে। যিনি বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ভাই। কিন্তু,, এক্ষেত্রে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে না জানিয়ে নিজেদের মতো করে বোর্ড গঠনের মতো অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে, রিপোর্ট চান শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "যাঁরা কামারহাটি থেকে এসেছেন...জানাবেন আজকে বিকেলের মধ্যে, বিকেল ৪টের মধ্যে অমিতাভ চক্রবর্তীর কাছে, কীসের ভিত্তিতে আজকে এই প্রচার হচ্ছে কামারহাটি থেকে যে বিজেপি ওখানে মিউনিসিপ্যালিটি বোর্ড গঠন করেছে। এখানে সরকার এবং দল আলাদা।"
বিজেপি কোথায় কার জন্য় দরজা খুলবে, আর কোথায় দরজা বন্ধ রাখবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা-গুঞ্জন-চর্চা। অধ্য়াপক রাজাগোপাল ধর চক্রবর্তী বলেন, "পুরসভা অধিকাংশই ভাঙনের মুখে। আমরা দেখেছি, অধিকাংশ কাউন্সিলর নানাভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে আছেন। তাঁরা আসার চেষ্টা করছেন। এখন বিজেপি কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁদের নেওয়ার তো খুব একটা প্রয়োজন নেই। বিজেপির যারা দীর্ঘদিন খেটেছেন, যারা এমএলএ সিট পাননি, তাঁরা তো চাইবেন কাউন্সিলর হিসাবে আসুক। দলের ভিতরে যে দাবি আছে সেটা তো আগে পূরণ করতে হবে, সংগঠন টিকিয়ে রাখতে হলে।"
পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হলেই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
