'আমি খুবই সাধারণ মানুষ। আমি একজন পার্শ্ব শিক্ষিকা। বেতন পরিশ্রমের তুলনায় খুবই কম কিন্তু এরা আমাকে ছাড় দিল না।' ... দেহের পাশে পড়ে সুইসাইড নোট ! আবার এক বিএলও-র মৃত্যু ঘিরে তরজা তুঙ্গে। নদিয়ার রিঙ্কু তরফদার। বাড়ি কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায়। চাপড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২০১ নম্বর বুথের BLO ছিলেন তিনি। পেশায় স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের পার্শ্বশিক্ষক। এসআইআর আবহে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের এই বিএলও-রও কাজের চাপে এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। পরিবারের দাবি, আত্মহত্যা করেছেন ওই BLO । ঝুলন্ত দেহের পাশে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে। স্বামীর দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন তিনি। একেবারেই পোক্ত নন অনলাইন কাজে। সেই মানসিক অশান্তি থেকেই বেছে নিলেন মৃত্যুর রাস্তা, এমনটাই দাবি পরিবারের। 

Continues below advertisement

স্বামী আশিস তরফদারের দাবি, SIR-এর ডিউটি পড়েছিল।  অফলাইনের কাজ অনেকটা সামলে ফেললেও অনলাইনে আপলোডের কাজে তিনি একেবারেই পেরে উঠছিলেন না বলে ভয়ে ছিলেন বলে দাবি করছেন  স্বামী। তিনি দাবি করেন, মৃত বিএলও জেলের ভয় পেতেন। মান সম্মান হারানোর ভয় পেতেন। ভাবতেন, পুলিশে দেবে, মারধর করবে। তিনি এউ দাবি করেন, তাঁদের কোনও পারিবারিক  অশান্তি ছিল না।  

পরিবারের দাবি,  BLO-র দায়িত্ব পাওয়া থেকেই মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন তিনি। মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে, অফলাইন মোডে ৯৫ শতাংশ কাজও হয়ে যায় । কিন্তু অনলাইন মোডের কাজ কিছুই করে উঠতে পারছিলেন না। কিন্তু শুধু সেই কাজ করতে পারলেন না বলেই কি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তিনি? 

Continues below advertisement

মৃত BLO-র স্বামীর দাবি, তিনি নাকি BDO অফিসেও গিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন অনলািনের কাজ পারবেন না। তাতে নাকি বিডিও তাঁকে বলেন,   তাহলে চাকরি করেন কী করে? চাকরি তাহলে ছেড়ে দিতে হবে। 

এই বিএলও-র মৃত্যুর পর আবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স পোস্টে এ নিয়ে সরব হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, আরও একজন BLO-র মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি মর্মাহত। কৃষ্ণনগরে পেশায় পার্শ্বশিক্ষক এক মহিলা BLO নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। AC ৮২ চাপড়া–র ২০১ নম্বর পার্টের BLO ছিলেন রিঙ্কু তরফদার। তিনি আত্মহত্যার আগে লেখা সুইসাইড নোটে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন। এই SIR প্রক্রিয়ার জন্য আর কত প্রাণ হারাতে হবে? আর কত মানুষকে মরতে হবে? এই প্রক্রিয়ার জন্য আর কতগুলো মৃতদেহ দেখব আমরা? দিনে দিনে আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই ধরনের অভিযোগ।' সব মিলিয়ে বিএলও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে চলেছে, বাড়ছে রাজনীতির আকচা-আকচিও।