উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে জনতার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর পরিচ্ছন্ন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বাংলার মানুষের মুখে মুখে ফেরে। সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এখন নেই। তবে প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল দেখেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাম্রাজ্যের পতন ও শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে দেখেছেন। এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বুদ্ধদেব-জায়া শোনালেন নতুন সরকার নিয়ে নিজের মনোভাব, আশা-আকাঙ্খার কথা। 

Continues below advertisement

প্রশ্ন: প্রায় ১ মাস হয়ে গেল নতুন সরকার এসেছে। এই সরকারকে কেমনভাবে দেখছেন?

মীরা ভট্টাচার্য: যে সরকারই হোক, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভাল করবেন, আমি তাঁদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

Continues below advertisement

প্রশ্ন: শিল্প করতে হবে, কৃষির উন্নতি করতে হবে, মানুষের হাতে কাজের ব্যবস্থা করতে হবে, এখন কি নতুন করে এই কথাগুলো বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শুনতে পাচ্ছেন?

মীরা ভট্টাচার্য: দেখুন শিল্পভাবনা, কৃষিভাবনা এগুলো তো এর মধ্যে থাকবেই। মুখে না বললেও হয়তো উনি এগুলোর জন্য ভেবেছেন। এখনও পর্যন্ত যেটুকু করেছেন, তাতে আমি আশাবাদী।

প্রশ্ন: শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আপনার কোনও কথা হয়েছে, কিছু মনে পড়ে?

মীরা ভট্টাচার্য: যখন বিধানসভায় ওঁর (পড়ুন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর) বডিটা নিয়ে যাওয়া হল, তখন উনি আমাকে এসে বলেছিলেন, যদি কখনও কিছু অসুবিধা হয়, প্রয়োজন হয়, আমাকে অবশ্যই জানাবেন। সেই সময় ওই কথাটা অবশ্যই ভাল লেগেছিল।

প্রশ্ন: নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আপনার কী বার্তা থাকবে?

মীরা ভট্টাচার্য: উনি রাজ্যটাকে একেবারে কলুষমুক্ত করুন। বাংলাটাকে এগিয়ে নিয়ে চলুন। কৃষি, শিল্প অন্যান্য সমস্ত দিকগুলি উনি দেখে এগিয়ে নিয়ে চলুন।

সোমবারই রাজ্যে 'আয়ুষ্মান ভারত' (Ayushman Bharat) নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি সই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অবশেষে আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গ। সোমবার দিল্লিতে বিজ্ঞান ভবনে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধে পাবেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। 'পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিল, সেখানে টাটা বাইবাই। উন্নয়ন বিরোধী সরকারকে বিদায় দিয়েছে রাজ্যবাসী', বলেছেন শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এবার ডাবল ইঞ্জিনের সুবিধা পাবে পশ্চিমবঙ্গবাসী। ৫৭০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই ট্রান্সফার করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় দেড় কোটি মানুষ এই প্রকল্পের ফলে উপকৃত হবেন। কারা কারা পাবেন আলাদা আলাদা কার্ড, তা স্থির হয়ে গেছে। শুধু ভাষণ আর পেপারে নয়, টাকাও অনুমোদন হয়ে গেছে এই প্রকল্পে।'