কলকাতা: ভোটের আগে বিহার-অন্ধ্রকে ঢালাও বরাদ্দ, পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি প্রায় শূন্য। পাওয়ার তালিকায় শুধু শিলিগুড়ি-বারাণসী হাইস্পিড রেল করিডর ও ডানকুনি-সুরাত ফ্রেট করিডর। ইতিমধ্য়েই এই ইস্যুতে আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। এবার ক্ষোভপ্রকাশ অমিত মিত্রের।এদিন অমিত মিত্র বলেন, 'বাজেটে সাধারণ মানুষদের জন্য কিছুই করেনি কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা নিয়ে ভাবে না। সবাই শিক্ষায় বাজেট বাড়াচ্ছে, মোদি সরকার কমাচ্ছে। IT-তে পশ্চিমবঙ্গ কিছুই পায়নি।'এদিন তিনি আরও বলেন, এই বাজেটে মানুষের স্বার্থে, কতগুলি জিনিস এরা কমিয়ে দিয়েছে। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, কাল থেকে শুরু মাধ্যমিক পরীক্ষা, দেখে নিন হেল্পলাইন নম্বরগুলি ; থাকবে অতিরিক্ত বাস, অ্যাম্বুলেন্স

Continues below advertisement

আর কয়েক মাস বাদেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট!তার আগে মোদি সরকারের বাজেট পেশ করলেন নির্মলা সীতারমণ! কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ কী পেল? তাদের ঝুলি কি ভরল?রাজ্য়বাসীর আশা কি পূরণ হল? বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের 'প্রাপ্তি'-র ডিভিডেন্ড কি ভোটে পাবে রাজ্য় বিজেপি? না কি বাজেট 'অসন্তোষ'কে হাতিয়ার করে বিজেপিকে আরও চেপে ধরবে তৃণমূল? তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, এটা সম্পূর্ণ বঙ্গ বিরোধী। বাংলার প্রতি বিমাতৃসুলভ বাজেট।  গত বছর বিহারে বিধানসভা ভোট ছিল। তার আগের বাজেটে বিহারের জন্য় ঝুলি উপুড় করে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বিহারের জন্য় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফুড টেকনোলজি পটনা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ৪টি নতুন গ্রিনফিল্ড ও ব্রাউনফিল্ড বিমানবন্দর IIT পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য পরিকাঠামো উন্নয়নে অর্থবরাদ্দ এবং বিহারে মাখনা চাষিদের উন্নয়নের জন্য বিশেষ বোর্ডের মতো গুচ্ছ গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করছিলেন নির্মলা সীতারমণ। তার আগে ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের পর সরকার গড়তে মোদিকে সাহায্য়ের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন চন্দ্রবাবু নায়ডু।  এরপর বাজেটে অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকার 'বিশেষ প্যাকেজ' দেয় মোদি সরকার। এই প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে মোদি সরকারের বাজেটের দিকে নজর ছিল সবার! চোখে পড়ার মতো প্রকল্প বলতে বাংলা পেল বারাণসী-শিলিগুড়ি হাই স্পিড রেল করিডর ডানকুনি-সুরাট কার্গো ফ্রেট করিডর আর দুর্গাপুরে শিল্প করিডর।কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী  নির্মলা সীতারমণ বলেন, পরিবেশবান্ধব যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা ৭টি হাই স্পিড রেল করিডর বিভিন্ন শহরের মধ্যে বৃদ্ধির সংযোগকারী হিসেবে গড়ে তুলব। এগুলি হল, মুম্বই থেকে পুণে, পুণে থেকে হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ থেকে চেন্নাই, চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরু,  দিল্লি থেকে বারাণসী, বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি। 

 মুখ্য়মন্ত্রী  মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জন্য় তারা কী দিয়েছে, কিছু না।  বড় বড় কথা বলেছে, কিছু দেয়নি। যে ফ্রেট করিডরের কথা বলেছে ডানকুনি থেকে,  ওটা রেলওয়ে বাজেটে, ২০০৯-এ আমি পেশ করেছিলাম, সেখানে আপনারা দেখবেন আমি উল্লেখ করেছিলাম ডানকুনি এবং অমৃতসর নিয়ে। তাহলে কি ভোটের আগে বিহারকে যে গুরুত্ব নরেন্দ্র মোদি দিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে দিলেন না?বাজেটের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির কোনও প্রভাব কি বিধানসভা ভোটে পড়বে?উত্তর মিলবে কয়েক মাস বাদেই।