বর্ধমান: চলতি মাসের ১২ তারিখ বর্ধমান স্টেশনে (Burdwan Station) পদপিষ্ট (Stampede Case) হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় এবার মৃত্যু হল একজনের। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক মহিলা যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। মৃত মহিলার নাম অপর্ণা মণ্ডল। সূত্রের খবর, তিনি হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা। সোমবার সকালে মৃত্যু হয়েছে সেই মহিলার। জানা গিয়েছে অপর্ণা মণ্ডলের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে।
ঠিক কী হয়েছিল বর্ধমান স্টেশনে?
ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১২ অক্টোবর। সেদিন সন্ধেয় বর্ধমান স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ট্রেন ঢুকতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সেদিন। সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ৭ জন। বর্ধমান স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামা-ওঠার সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসে হলদিবাড়ি এক্সপ্রেস। কর্ড লাইনে ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসে হাওড়া-বর্ধমান যাওয়ার ট্রেন। আচমকা হাওড়া-বর্ধমান যাওয়ার ট্রেনটিকে মেন লাইনে করে দেওয়ায় বিপত্তি দেখা দেয়। ফুট ওভারব্রিজে দিয়ে নামা-ওঠার সময় পদপিষ্ট হতে হয় বহু যাত্রীকে। আহতদের মধ্যে ৩ জন মহিলা ও ৩ জন পুরুষ। জি আর পি ও স্টেশন পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু এই ঘটনায় আতঙ্কে ছিলেন অনেক যাত্রীরাই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, সেদিন সন্ধেয় বর্ধমান স্টেশনের ৪, ৬, ৭ নম্বর প্ল্য়াটফর্মে তিনটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। সিঁড়ি দিয়ে যাত্রীরা দ্রুত সেই ট্রেন ধরার জন্য় নামতে থাকেন। কিন্তু সিঁড়িটির প্রস্থ ছোট হওয়ায় ভিড় বাড়তে থাকে, যা সামাল দেওয়া চাপের হয়ে দাঁড়ায়। তাড়াহুড়োয় উল্টে পড়ে যান অনেকে। রেলের উদ্ধারকারী দল ও জি আর পি দৌড়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালে বর্ধমান স্টেশনে বিপত্তি হয়েছিল। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল সেবার বর্ধমান স্টেশনের একাংশ। স্টেশনে প্রবেশ পথের সামনে ভবনের একাংশ ভেঙে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল সেবর ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে থাকার আশঙ্কা কম। পরে এই বিষয় নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন যে ধ্বংসস্তুপের নীচে কেউ আটকে ছিলেন না।ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। ঘটনার দিন রাত আটটা নাগাদ বর্ধমান স্টেশন ভবনের একাংশ ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় কয়েকজন আঘাত পান। তাঁদের মধ্যে ২ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিত্সার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।