কলকাতা: তৃণমূলের ৩টি অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে? পাশাপাশি, তদন্তে কী পাওয়া গেছে, কী কী তথ্য প্রমাণ আছে-- মঙ্গলবারের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে জানাবে রাজ্য। তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মামলায় নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পাশাপাশি, আদালতের প্রশ্ন, অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হলে যদি সমস্ত টাকা বের করে নেওয়া হয় তাহলে কী হবে? 

Continues below advertisement

তদন্তে যদি দেখা যায় যে, বেআইনি টাকা এই অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে তখন তদন্তকারীরা কী করবেন?  

দল ভেঙে খান খান হওয়ার পর, ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বেড়েছে অ্যাকাউন্ট নিয়ে। তালা পড়েছে তৃণমূলের তহবিলে। যা নিয়ে সম্মুখ সমরে নেমেছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত-তৃণমূল।

Continues below advertisement

এই প্রেক্ষিতে এদিন মামলার শুনানি হয় কলকাতা হাইকোর্টে। শুনানির শুরুতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ যদি শুধুমাত্র ৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে ঘিরেই হয়ে থাকে তাহলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না করে কি তদন্ত করা যায়? আদালতের কি উচিত হবে এই তদন্তকে পঙ্গু করে দেওয়া? 

রাজ্য সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তখন বলেন, দয়া করে এই সিদ্ধান্ত কিছুদিন পরে নিন, আমরা হলফনামা জমা করতে চাই। 

তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী বলেন, শুধু এই ৩টি অ্যাকাউন্ট নয়, আরও ৫ টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পুলিশ কি এভাবে একটা রাজনৈতিক দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে তাকে পঙ্গু করে দিতে পারে? ৪-৫ শতাংশের ব্যবধানে একটা দল হেরেছে। তৃণমূলের একটা অংশ গিয়ে অভিযোগ করছে বলে পুলিশ এই কাজ করতে পারে? 

শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, অভিযোগ তো শুধুমাত্র এই ৩টি অ্যাকাউন্টকে ঘিরেই, অন্য কিছু নিয়ে অভিযোগ নেই। ফলে অন্য কিছু বাজেয়াপ্ত করার প্রশ্ন নেই। 

বিচারপতি আরও বলেন, যে অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে সেটা একটা সার্বিক অভিযোগ। কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়নি। ১৮ জুন অভিযোগের পরের দিনই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। আমি জানতে চাই, এই অল্প সময়ে পুলিশ কী কী তথ্য পেয়েছে যার ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হল?  

তখন সলিসিটর জেনারেল বলেন, তৃণমূলের দু'টি অংশই যদি স্পেশাল অফিসারের কাছে গিয়ে বলেন যে, তারাই আসল তৃণমূল এবং তারা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে চান তাহলে কী হবে? এখন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করাই থাক, কত টাকা আছে সেটা আদালতের সামনে পেশ করা হোক। আমরাও পুলিশের তরফ থেকে সব জানাব, কী কী তথ্য প্রমাণ আছে, কীভাবে অর্থ পাচার হয়েছে সব জানাব। 

পাশাপাশি, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বলেন, আমি যুগ্ম - স্পেশাল অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি) নিয়োগ করতে পারি, যাঁদের নজরদারিতে দৈনিক খরচ চালাবার জন্য এই তিনটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনও বড় খরচ করা যাবে না, বা নীতিগত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।  

গত ১৬ জুন, অরূপ বিশ্বাসের তরফে একটি চিঠি রিসিভ করে HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখা ।

যেখানে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান। 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এর তরফেও বিধাননগর পুলিশের সাইবার থানায় HDFC ব্যাঙ্কে থাকা ৩টি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, বেআইনিভাবে পাওয়া অর্থ জমা রয়েছে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে।

ওই অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে, HDFC ব্য়াঙ্কে তৃণমূলের নামে থাকা ৩ টে অ্য়াকাউন্টে 'ডেবিট ফ্রিজ' করে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে, দলীয় অ্যাকাউন্টে লেনদেন ফের চালু করতে কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের শিবির। আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।