কলকাতা: আই প্যাকের অফিস ও আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়িতে ED তল্লাশি নিয়ে টানাপোড়েন গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট অবধি। পরস্পরের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছে দু'পক্ষই। তৃণমূলের পিটিশনে দাবি করা হয়েছে- 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্বাচনের প্রচার সংক্রান্ত গোপন এবং স্পর্শকাতর নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।' পাল্টা ED-র পিটিশনে দাবি করা হয়েছে-'এই তল্লাশি অভিযান প্রমাণভিত্তিক ও পুরোপুরি আইনত।' ED এবং তৃণমূলের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও চলছে সমানতালে। 

Continues below advertisement

ED-তল্লাশিতে তুলকালাম নিয়ে আজ হাইকোর্টে জোড়া মামলার শুনানি ছিল। তল্লাশিতে বাধার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ED অন্যদিকে পাল্টা ED-র বিরুদ্ধে অতি সক্রিয়তার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অথচ এই IPAC-কাণ্ড নিয়ে হাইকোর্টে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা চলে। যার জেরে স্থগিত হয়ে যায় শুনানি। আর এরপর আজই শুনানি চেয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করেছিল ED। 

যদিও ED-র আর্জির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলেন না কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। ১৪ জানুয়ারিই হবে তৃণমূল, ED-র মামলার শুনানি।         

Continues below advertisement

শুক্রবার দুপুর আড়াইটেয়, মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। দুপুর দেড়টা থেকেই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ভিড় শুরু হয়। আইনজীবী, সাদা পোশাকের প্রচুর পুলিশ, এমনকী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেও দেখা যায় এজলাসে। আদালতে এত হই-হট্টগোল হয়, ভিড় এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে নড়াচড়া করার জায়গা ছিল না। এই অবস্থায় বিচারপতি বারবার বলতে থাকেন, তিনি সওয়াল শুনতে পাচ্ছেন না। যাঁদের সঙ্গে এই মামলার যোগ নেই, তাঁরা যেন বাইরে চলে যান। একই অনুরোধ করতে থাকেন, রাজ্য় সরকারের আইনজীবী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়। কিন্তু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বদলায়নি। এরপরই বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। স্থগিত হয়ে যায় শুনানি।                         

জানা গিয়েছে, এদিন এজলাসে আইনজীবী ছাড়াও প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল। হই-হট্টগোলও শুরু হয়ে যায় এজলাসে। এই মামলা ছাড়াও আরও যে মামলাগুলি ছিল সেগুলিও ঠিক মতো শুনতে পাচ্ছিলেন না বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এজলাসে বেনজির বিশৃঙ্খলা হওয়ায় উঠে যান বিচারপতি। আইনজীবীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করলেও এজলাসে প্রচুর ভিড় জমতে থাকে, যার জেরে বিরক্ত হন বিচারপতি ।