কলকাতা: তৃণমূলের ভোটকৌশল চুরির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। আইপ্যাকের (IPac) অফিসে ইডি (ED) তল্লাশির প্রতিবাদ। যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী। হাজরায় মিছিলের শেষে মঞ্চ থেকে মমতা চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে।
মমতা বলেন, 'বাংলা জেগে উঠেছে, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন দেখছি। সিপিএমের লোকেরা লোহার চেন নিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করেছে, মোটা ডান্ডা দিয়ে মেরেছিল, রক্ত বেরোচ্ছিল। পরপর ডান্ডা দিয়ে মেরেছিল, হাত থেঁতলে দিয়েছিল, এই হাজরাতেই মার খেয়েছিলাম। অনেকবার মার খেয়েছি, সারা দেহে আঘাত নিয়েই কাজ করি। যেদিন আমাকে কেউ আঘাত করে, সেদিন আমার পুনর্জীবন হয়।'
SIR নিয়েও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন, 'এসআইআর শুনানিতে ডেকে পাঠাচ্ছে, তথ্য নিয়ে রিসিপ্ট দিচ্ছে না, লিখে দিচ্ছে নট ফাউন্ডিং। কেন ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, লজ্জা করে না, জুমলা পার্টি, অত্যাচারী পার্টি, ব্যাভিচারী পার্টি। বাংলা ভাষায় কথা বললেই বলা হচ্ছে বাংলাদেশি, এদের ভোটে জিতেছেন, তাহলে কেন পদত্যাগ করবেন না? এখানে একটিও রোহিঙ্গা খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাহলে বাংলার ওপর হামলা কেন? নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে ভোট চুরি করে জিতেছে অন্য রাজ্যে, ঘেঁচু করবে নির্বাচন কমিশন।'
এরপরই মমতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপিকে। বলেছেন, 'সুস্থ বাঘের থেকে আহত বাঘ ভয়ঙ্কর। দেশের টাকা বাইরে নিয়ে গেছো, অথচ গ্রামের লোকের টাকা দেয়নি। আমার টাকা আমায় দাও, এটা পশ্চিমবাংলার টাকা। ৪ বছর ধরে আবাস, জল, সর্বশিক্ষা অভিযান, মিড ডে মিলের টাকা বন্ধ। একজনকে নির্বাচন কমিশনকে বসিয়েছে, তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে ছিলেন। দিল্লিতে আমাদের এমপি-রা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে, আর এখানে লাল কার্পেট বেছানো থাকবে।'
আই প্যাকের অফিসে ইডি তল্লাশি মেনে নিতে পারছেন না মমতা। বলেছেন, 'সব এজেন্সি দখল করেছে, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার জোর করে দখল করা হয়েছে, এখন ভাবছে জোর করে বাংলা দখল করবে। পশ্চিমবাংলার নাম সহ্য করতে পারছে না, বাংলা বললে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, গুজরাতে মারছে। পশ্চিমবাংলায় হিন্দিভাষীদের ওপর অত্যাচার হয়নি, আমরা কোনওদিনও করি না। এই বিজেপিকে আমরা ভদ্রতা করি, তা না হলে মুখে বলব না, কি করি, আপনারা জানেন। আমরা করলে অনেক কিছু করতে পারতাম। কয়লার টাকা অমিত শাহ খায়, গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়, সঙ্গে আছে বিজেপির ডাকাত জগন্নাথ। জগন্নাথের মাধ্যমে শুভেন্দু, আর শুভেন্দুর মাধ্যমে টাকা যায় অমিত শাহের কাছে। আমার কাছে সব পেন ড্রাইভ করা আছে, সব ফাঁস করে দেব।'