কলকাতা: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করার বিষয়ে কী ভাবছে রাজ্য সরকার? রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি। এই নিয়ে রাজ্য সরকার কী ভাবনাচিন্তা করছে তা জানাতে ২ সপ্তাহের সময়সীমাও বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন সমিতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রাজ্যজুড়ে কলেজে কলেজে 'মনোজিৎ মডেল' সামনে আসার পর, আরও জোরালো হয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি। আর এবার, ছাত্রভোট নিয়ে সরাসরি রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন করল কলকাতা হাইকোর্ট। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করার বিষয়ে কী ভাবছে রাজ্য সরকার? ২ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সরকারকে জানাতে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি সৌমেন সেন।
২০১৭-র জানুয়ারিতে শেষবার রাজ্যের কলেজেগুলিতে ছাত্র ভোট হয়েছে। তারপর রাজ্যে দুটো পঞ্চায়েত নির্বাচন, দুটো লোকসভা নির্বাচন, একটা বিধানসভা নির্বাচন, একাধিক উপনির্বাচন, পুরসভার নির্বাচন হয়েছে। হয়নি শুধু ছাত্র ভোটটাই। তাও ৭ বছরের বেশি সময় ধরে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ২০২০ সালে এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্য়ালয়ে ২০১৯ সালে শেষবার ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়েছে। এদিন রাজ্য সরকারের তরফে হাইকোর্টে সওয়াল করা হয়, অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়ে আমরা নির্বাচনে (ছাত্র সংসদ) যাব না। এগুলো রাজনৈতিক নিয়োগ। আমরা এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছি। তখন বিচারপতি বলেন, এটা আপনি বলতে পারেন না। এরপর রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যরা কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। তখন বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, রাজ্য সরকার নির্বাচনের (ছাত্র সংসদ) বিজ্ঞপ্তি জারি করুক। বাকিটা আমরা দেখছি। মনোজিৎকাণ্ড সামনে আসার পর দেখা যায় রাজ্য়ের কলেজগুলির পরিচালন সমিতির মাথায় বসে রয়েছেন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী-বিধায়করা। কেউ ৬ টা কলেজের পরিচালনের সমিতির সভাপতি। তো কারও হাতে রয়েছে ৪টে কলেজ। কসবা আইন কলেজে তৃণমূল বিধায়ক অশোক দেবের প্রশ্রয়েই গণধর্ষণে অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রর রমরমার অভিযোগ পর্যন্ত উঠেছে।এই প্রেক্ষাপটেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন সমিতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি কলেজগুলির পরিচালন সমিতি প্রসঙ্গে বিচারপতি সৌমেন সেন বলেন, সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন সমিতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।পরিচালন সমিতিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের রাখা হোক। তাঁদের কাছ থেকে পড়ুয়ারা শিখতে পারবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য আছেন সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা হোক।