উজ্জ্বল মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা : প্রধানমন্ত্রীর সফরের শেষ ভাগে বিতর্ক। VVIP জোনে ঢোকার মুখে আটকে দেওয়া হল সুকান্ত মজুমদারের কনভয়কে। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে ঢুকতে হল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। কিন্তু, রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর কনভয়কে ছাড় দেওয়া হয়। 

আজ প্রধানমন্ত্রীকে সি-অফ করার জন্য প্রোটোকল অনুযায়ী রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও আজ বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যায়, সুকান্ত মজুমদার যখন কনভয় নিয়ে ভিভিআইপি জোনের দিকে যাচ্ছেন, অর্থাৎ যার ভিতরে প্রধানমন্ত্রী বসবেন হেলিকপ্টার থেকে নেমে...তার আগে সুকান্ত মজুমদারের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। তারপর দেখা যায়,তিনি হেঁটে গোটা রাস্তাটা যাচ্ছেন। তিনি জানতে চান, কেন তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, তাঁকে বলা হয় ম্যাডামের আপত্তি আছে। এখানে ম্যাডাম হলেন, যিনি জেলার আধিকারিক...জেলা পুলিশ...এখানকার এয়ারপোর্ট জোনের দায়িত্বে রয়েছেন। 

এরপর সুকান্ত মজুমদার প্রধানমন্ত্রীকে সি-অফ করে বাইরে এসে বলেন, "এখানকার পুলিশ প্রশাসন যেভাবে কাজ করছে তা অগণতান্ত্রিক। আপনারা দেখেছেন, সুজিত বাবুর গাড়ি কালও ঢুকেছিল এই চত্বরের মধ্যে। কেন্দ্রীয় MoS হওয়া সত্ত্বেও আমার গাড়ি এখানে ঢুকে দেওয়া হয়নি। আমরা যখন পুলিশকর্মীর সঙ্গে কথা বলি, ওঁরা বলেন ম্যাডাম মানা করেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ম্যাডাম ? ওঁরা বললেন, ডিসি। কোন এক্তিয়ারে একজন কেন্দ্রীয়মন্ত্রীার গাড়ি উনি এখানে ঢুকতে দেবেন না। অথচ রাজ্যের মন্ত্রীর গাড়ি ঢুকবে। রাজ্যের মন্ত্রীর মাথায় কি দুটো সিং গজিয়েছে। এই ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ আমরা সহ্য করব না। যদি., মুখ্যমন্ত্রী আসতেন...তাহলে নয় আমি ভাবতাম যে হ্যাঁ মুখ্যমন্ত্রী...স্বাভাবিকভাবেই তিনি আমাদের অনেক উপরে অবস্থান করেন, তাঁর গাড়ি আলাদাভাবে ঢুকতেই পারে। কিন্তু, রাজ্যের একজন মন্ত্রীর গাড়ি যদি এখানে ঢুকতে পারে, কেন্দ্রেরও যে কোনও মন্ত্রীর গাড়ি এখানে ঢুকতে দিতে হবে। যদি দিয়ে না থাকেন, আপনি প্রিভিলেজ ব্রিচ করেছেন। যে অফিসার আছে তাঁকে আপনাদের মাধ্যমে আমি বলে দিচ্ছি, পারলে কোর্টে যান, যেখানে যান...আমি ব্যাক করাবো দিল্লি থেকে। দিল্লিতে গিয়ে কান ধরে ওঠবোস করাব।" 

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিস্টে কারা কারা যাবে সেই প্রোটোকল আগে থেকে জানাতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকলের লিস্ট অনুযায়ী সেখানে যে অভ্যাগতদের নাম ছিল তাঁরা ঢুকেছেন। আসলে সুকান্ত মজুমদারকে বিজেপি পাতে দেওয়া নেতৃত্ব বলে গন্য করে না। হাফ-প্যান্ট মন্ত্রী করে রেখে দিয়েছেন। "