সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দননগর: এই বছর পঞ্চমী থেকেই চন্দননগরের রাস্তায় রাস্তায় ঠাকুর দেখার ঢল। চন্দননগর মানেই তো আলোর শহর, আর জগদ্ধাত্রী পুজো আলোর উৎসব। শুধু জেলার মানুষেরা নন, কলকাতা থেকেও এই সময়ে বহু মানুষ ভিড় জমান শহরতলির এই জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে। রাস্তায় রাস্তায় উপচে পড়ে ভিড়। দুর্গাপুজোর থেকে কোথাও পিছিয়ে থাকে না চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর আনন্দ। তবে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে হঠাৎই শোকের ছায়া নেমে এল পরিবারে। আর সবার মতোই, মঙ্গলবার স্বামীর সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন বছর ৫২-র দিপালী দাস। কিন্তু তাঁর আর ঘরে ফেরা হল না। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তাঁর। 

Continues below advertisement

ঠিক কী ঘটেছিল? জানা যাচ্ছে, চুঁচুড়া মতিঝিলের দম্পতি তরুণ কান্তি দাস ও দিপালী দাস ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন বাইকে করে। কলুপুকুর পুজো মন্ডপের সামনে তাদের বাইকে পিছন থেকে একটি লরি ধাক্কা মারে। দুজনেই রাস্তায় পরে যান। বাইকের পিছনে বসেছিলেন দিপালী। তিনি রাস্তায় পড়ে যেতেই, তাঁর ওপর দিয়ে লরি চলে যায়। ছুটে আসেন স্থানীয়রা, কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ায় হয়ে গিয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দিপালীর। লরি ও লরি চালককে আটক করেছে পুলিশ। 

চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো চলাকালীন, ভারি যান চলাচল বন্ধ থাকে। বিভিন্ন জায়গায় জায়গায় নো এন্টি করা থাকে। বিসর্জনের শোভাযাত্রার আলো সাজানোর জন্য লরি এক জায়গা থেকে অন্য যায়গায় যায়। যে লরিটি দূর্ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি একটি পুজো কমিটির বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। শববাহী গাড়ি। মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুজো কমিটির এক সদস্য জানান, প্রৌঢ় দম্পতির মেয়ে জামাই ব্যাঙ্গালোরে থাকেন। তাঁদের সাথে ফোনে কথা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পরিবারের কাছে।

Continues below advertisement

স্থানীয় আট নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওম প্রকাশ মাহাত বলেন, মানকুন্ডু আদি পালপাড়ার লরি যাচ্ছিল। সেই সময়েই ওই বাইকটিকে ধাক্কা মারে। দুপুর থেকে নো এন্ট্রি থাকে। আগামী দিনে শুধু লরি চালক খালাসি ছাড়া যাতে না যায় সেটা দেখা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

অন্যদিকে, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার 'সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী' করতে গিয়েই ঘটে গেল বিপত্তি। সপ্তমীর দিন ভেঙে পড়ল চন্দননগরের পুজো মণ্ডপ! চন্দননগর কানাইলাল পল্লীর পুজোয় এবারের ট্যাগলাইন ছিল, 'বিশ্বের সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী'। নির্মাতাদের দাবি ছিল, তাঁরাই নাকি এই বছর সবচেয়ে বড় জগদ্ধাত্রী তৈরি করেছেন। পঞ্চমী থেকেই এবার চন্দননগরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছিলেন মানুষ। আলোর আকর্ষণ থেকে শুরু করে বিশাল বিশাল প্রতিমার মুগ্ধতা.. এই সবের টানেই প্রত্যেক বারের মতো চন্দননগরে ভিড় জমিয়েছিলেন মানুষ। তবে সপ্তমীর দিন, ঝোড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়ল কানাইলাল পল্লীর পুজো মণ্ডপ।