ঝিলম করঞ্জাই,কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এ আরও বড় ভাঙন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। শুধু রাজ্য সভানেত্রীর পদই নয়, দলের সমস্ত পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পদত্যাগের কথা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।
গত মাসের ৩ তারিখেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন চন্দ্রিমা। ফলে দলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
'বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে ... '
ইস্তফা প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আমি দলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।” তাঁর আরও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, “বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন ফেরার প্রশ্ন নেই।” তবে দলের কারও বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেননি তিনি। চন্দ্রিমার কথায়, “আমার কোনও অভিযোগ নেই, আমি নিজেকে অভিযুক্ত করছি।” দলের পরবর্তী দায়িত্ব কে সামলাবেন, সেই প্রশ্নে চন্দ্রিমা বলেন, “অনেক বড় বড় নেতারা আছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই দেখবেন।” যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেননি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি এখনও তৃণমূলে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেননি এখনও । রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর এই ইস্তফা 'কালীঘাট-তৃণমূল' ও রাজনীতির অলিন্দে নতুন করে আলোড়ন ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা চন্দ্রিমার
সূত্রের খবর, শুধু দলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ নয়, তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দলের হয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের নথিতে স্বাক্ষর করার যে দায়িত্ব তাঁর উপর ছিল, সেই দায়িত্ব থেকেও তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাক্ষরকারীর পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে মমতাকে 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী' উল্লেখ
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর পদত্যাগপত্রের ভাষা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো চিঠিতে তাঁকে 'তৃণমূল চেয়ারপার্সন' হিসেবে উল্লেখ করেননি চন্দ্রিমা। পরিবর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী' হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চিঠিতে মমতার এই উল্লেখ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
