কলকাতা: পুজোয় বেনজির বিপর্যয়। চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশু-সহ ১৯ জনের। পদপিষ্ট হয়ে আহত ২৫। দায় কার? কেন ভিড় সামলানো গেল না? আটক ১২। রাতেই ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী। দেন কটা প্রতিক্রিয়া।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, খুব প্যাথেটিক এবং দুঃখজনক,বেদনাদায়ক ঘটনা। আমি গোটা রাজ্যের এবং বিশেষ করে কলকাতায়, থিমের নামে প্যান্ডেলের ভিতরে অন্ধকার করে রেখে, এই যে থিমের থেকেও মানুষের জীবন অনেক মূল্যবান। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, আগামী যে কয়েকটা দিন রয়েছে। আপনারা পুলিশ প্রশাসনের নিয়ম মেনে কাজ করবেন। করজোড়ে আপনাদের কাছে আবেদন করব। দ্বিতীয়ত আগামীকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ রাজ্যের মন্ত্রীদের, বিধায়ক, সাংসদদের, আমাদের যত কর্মসূচি ছিল, আমরা স্থগিত করেছি। এবং দুর্গাপুজা সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের সংষ্কৃতি এবং ট্যুরিজম ডিপার্টমেন্টের আগামী কয়েকদিনের যে কর্মসূচি রয়েছে, সেখানেও স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু পুজো হবে। এবং ভক্তরা, দর্শকরা, মাকে দর্শণ করবেন। পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। এটা একটা আস্থার বিষয়। এটা নিয়ে সরকার কখনও হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কিন্তু আমরা পুরো সরকার, নিহত ও আহত পরিবারের পাশেই আগামী কয়েকটাদিন কাটাতে চাই। প্রত্যেকের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। আমাদের প্রত্যেকটি এলাকার বিধায়করা, তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন। এবং আমরা দ্রুততার সঙ্গে পোস্টমর্টম করে, বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজও করব।’
এই ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যে গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম ও কংগ্রেসও।সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, লালবাজারে কন্ট্রোল রুমে ফোন করার পরেও কোনও রেসপন্স নেই, স্থানীয় মানুষরা বলছেন। মুখ্যমন্ত্রী যখন সব প্যান্ডেলে গিয়ে উদ্বোধন করেন তার আগে তো ওনার দেখা উচিত। 'সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, সবাই দেখতে পাচ্ছেন রাস্তাঘাট যানবাহন কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকী প্যান্ডেলেও কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এতগুলো মানুষের প্রাণ গেল। যারা আহত হলেন, তাদের উদ্ধার, তাতেও পুলিশ নেই। স্থানীয় মানুষ। স্থানীয় মানুষ কদিন ধরেই বলছিলেন যে, পুলিশের এই অপদার্থতা আমাদের চোখে পড়ছে।'
অন্যদিকে, তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার রাতে প্রথমে হাসপাতালে, তারপরে চোরবাদান সর্বজনীনের ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যনন্ত্রী। মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
